Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দলাই লামার উত্তরসূরি কে হবেন, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একমাত্র বর্তমান দলাই লামারই—বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করে চিনকে কার্যত কড়া বার্তা দিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু (Kiren Rijiju)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “উত্তরসূরি নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রচলিত নিয়ম মেনে এবং বর্তমান দলাই লামার ইচ্ছানুসারেই হবে। এই বিষয়ে অন্য কারও কোনও অধিকার নেই।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্য ভারতের পক্ষ থেকে চিনের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারিরই প্রত্যুত্তর।
দলাই লামার ৯০তম জন্মদিনের আগেই চিনা চাপ (Kiren Rijiju)
আগামী ৬ জুলাই ৯০ বছরে পা দিচ্ছেন দলাই লামা(Kiren Rijiju)। তাঁর জন্মদিনের আগে ধর্মশালায় উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আবহেই চিন সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, “বেজিংয়ের অনুমোদন ছাড়া পঞ্চদশ দলাই লামার মনোনয়ন গ্রহণযোগ্য হবে না।” এই অবস্থান নিয়ে তীব্র বিরোধিতা করেন দলাই লামা নিজে। তিনি বলেন, “উত্তরসূরি নির্বাচনের দায়িত্ব গাহদেন ফোড্রাং ট্রাস্টের। বাইরের কাউকে এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না।”
২০১৯ সালেই ভারতকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দলাই লামা(Kiren Rijiju)
এক সাক্ষাৎকারে চতুর্দশ দলাই লামা তেনজ়িং গ্যাৎসো জানান, “আমার উত্তরসূরি চিন বা চিন-অধিকৃত তিব্বতে নয়, ভারতেই মনোনীত হবেন(Kiren Rijiju)।” এই বক্তব্যের পর থেকেই চিনা সরকার আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। বেজিংয়ে সম্প্রতি তিব্বতিদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্মগুরু, পাঞ্চেন লামা-র সঙ্গে দেখা করেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তবে দলাই লামাপন্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন—চিনা নিয়োজিত পাঞ্চেন লামাকে তাঁরা মানেন না।

ধর্মশালায় চাপ ও প্রতিরোধের মঞ্চ(Kiren Rijiju)
তিব্বতের নির্বাসিত সরকারের ডেপুটি স্পিকার ডোলমা শেরিং তেখাং বলেন,“চিন আমাদের প্রতিষ্ঠান কব্জা করতে চাইছে(Kiren Rijiju)। এর পেছনে স্পষ্ট রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে।” তিনি জানান, দলাই লামার উত্তরসূরি মনোনয়নের অধিকার তাঁরা বেজিংকে ছাড়বেন না। ৬ জুলাই ধর্মশালায় দলাই লামার জন্মদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কিরেন রিজিজু এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজীবরঞ্জন সিংহ। রাজনৈতিক বার্তাও দিতে পারে এই উপস্থিতি।

প্রেক্ষাপট: চিনের আগ্রাসনের মুখে ভারত হয়ে উঠেছে আশ্রয়স্থল(Kiren Rijiju)
১৯৫৯ সালে চিনের দমননীতির প্রতিবাদে দলাই লামা তিব্বত থেকে গোপনে ভারতে পালিয়ে আসেন, মাত্র ২৪ বছর বয়সে।
- তিব্বত থেকে পালানোর পথে ব্রহ্মপুত্র নদ পার করে হিমালয়ের দুর্গম পথ অতিক্রম করে তিনি পৌঁছন ভারত।
- পরে ধর্মশালায় তাঁর নেতৃত্বে তিব্বতিরা গড়ে তোলেন নির্বাসিত সরকার ও আশ্রম।
- ভারতে এখন কয়েক হাজার তিব্বতি আশ্রয়প্রাপ্ত, যাঁরা দলাই লামাকে তাঁদের ধর্মীয় এবং সাংস্কৃতিক ঐক্যের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে মানেন।
উত্তরসূরি নির্বাচন চিন বনাম দলাই লামা লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দু(Kiren Rijiju)
দলাই লামার উত্তরসূরি বাছাইয়ের অধিকারকে ঘিরে শুরু হয়েছে এক কূটনৈতিক এবং ধর্মীয় টানাপড়েন।
একদিকে চিন চাইছে নিজের অনুগত এক পাঞ্চেন লামার মাধ্যমে উত্তরসূরি নির্বাচন করতে, অন্যদিকে দলাই লামা ও তাঁর অনুগামীরা চাইছেন ধর্মীয় নিয়ম মেনেই সিদ্ধান্ত হোক। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট— চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের ধর্মগুরুরই। এই অবস্থান ভবিষ্যতের তিব্বত-চিন-ভারত সম্পর্কের নির্ণায়ক পর্বে পৌঁছাতে পারে।