Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: দুর্গাপুজোর সরকারি অনুদান নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বড় নির্দেশ। আদালতের আগের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে সমস্ত পুজোকমিটি বা ক্লাব এখনও পর্যন্ত খরচের হিসেব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দেয়নি, তারা কেউ অনুদান (Durga Puja Grants) পাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে সব পুজো কমিটি সার্টিফিকেট দিয়েছে, তারাই অনুদান পাবে। বুধবার এই মামলায় পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চ।
পাশাপাশি, পুজোর ছুটির এক মাসের মধ্যে খরচের হিসেব অর্থাৎ ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট নিয়ে রাজ্যকে রিপোর্ট জমা দেওয়ারও নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে নতুন যে সব ক্লাব এবছর সংযোজিত হয়েছে, তাদেরকে এই হিসেবের তালিকার বাইরে রাখা হবে। গত বছর যে সব ক্লাবগুলিকে টাকা দেওয়া হয়েছিল, তাদেরকেই এই হিসেব দিতে হবে।
খরচের হিসেব দিলেই মিলবে সরকারি অনুদান! (Durga Puja Grants)
যে সমস্ত পুজো কমিটি অনুদানের হিসেবে বা আদালতের নির্দেশ মতো ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ জমা দেয়নি, তাদের কি এখনও অনুদান দেওয়া হচ্ছে? সোমবার গত শুনানিতে দুর্গাপুজো কমিটিগুলোকে সরকারি অনুদান মামলায় এই নিয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছিল হাইকোর্ট। খরচের হিসেবে না দিলে, কেন ক্লাবগুলোকে অনুদান দেওয়া হবে? সেই প্রশ্নই তোলেন বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি স্মিতা দাস দে’র ডিভিশন বেঞ্চ। বুধবার এই নিয়ে রাজ্যকে তাদের অবস্থান জানোর নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
বুধবার রাজ্য আদালতে জানায়, ৪১,৭৯৫টি ক্লাব এই অনুদান পায়। তারমধ্যে ৪১,৭৯২টি পুজো কমিটি হিসেব দিয়েছে। তিনটি ক্লাব খরচের হিসাব এখনও দেয়নি। ওই তিনটি ক্লাবই শিলিগুড়ির। গত বছর কলকাতা পুলিশ এলাকায় ২,৮৭৬টি পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেকে হিসেব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিয়েছে। তা শুনে বিচারপতি পাল বলেন, ‘সংখ্যাটা এত কম যে দেখার জন্য মাইক্রোস্কোপ লাগবে।আগামী এক মাসের মধ্যে যে সমস্ত ক্লাব হিসেব দিতে পারবে, তারাই অনুদান (Durga Puja Grants) পাবে। যারা হিসেব দেয়নি, তারা অনুদান পাবে না। সরকারি টাকা এভাবে খরচ করা যায় না।’

গত শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত সওয়ালে বলেছিলেন, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আদালতকে জানানো হয়েছিল যে ৫০০টিরও বেশি পুজো কমিটিকে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি পুজো কমিটি হিসেব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দেয়নি। সেই শুনে বিচারপতি সুজয় পাল বলেন, ‘আমরা কোনও সংখ্যার হিসেবে যেতে চাইছি না। আমরা শুধু জানতে চাইছি যে, গত বছর পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ মেনে যে সমস্ত পুজো কমিটি শংসাপত্র জমা দেয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে? তাদেরও কি অনুদান (Durga Puja Grants) দেওয়া হবে?’ বিচারপতির প্রশ্নের উত্তরে এজি জানান, পরবর্তী শুনানির দিন তিনি গোটা বিষয়টা আদালতকে জানাবেন।
ইউসি না দিলেও কেন অনুদান দেওয়া হচ্ছে? পর্যবেক্ষণ আদালতের (Durga Puja Grants)
আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, অতীতে সরকারি অনুদানের টাকা কোথায় কত খরচ হচ্ছে, তা নিয়ে পুজো কমিটিগুলিকে ‘ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট’ জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। কতগুলো পুজো কমিটি সেইই সার্টিফিকেট জমা দেয়নি? না দেওয়া সত্ত্বেও কি অনুদান দেওয়া হচ্ছে? এই মামলার পরবর্তী শুনানির দিন রাজ্যকে হাইকোর্টে এই নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে হবে।
উল্লেখ্য, সরকারি অর্থের অপচয়ের অভিযোগ তুলে রাজ্যের দুর্গাপুজো কমিটি গুলোকে সরকারি অনুদানের (Durga Puja Grants) বিরোধিতা করে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্গাপুরের বাসিন্দা সৌরভ দত্ত নামে এক ব্যক্তি। মামলাকারীর আইনজীবী আদালতে অভিযোগ করেন, উপযুক্ত খাতে খরচ না করে জনগণের টাকা পুজো কমিটিগুলিকে বিলিয়ে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এই অভিযোগে রাজ্যের যুক্তি, জনস্বার্থে ব্যবহারের জন্যই এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে। ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পুলিশ ওই টাকা খরচ করছে। এ ছাড়াও কোভিডের সময় বেশ কিছু বিধিনিষেধের জন্যও এই অর্থ খরচ করা হয়েছিল।
এই মামলাতেই অতীতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, সরকারি অনুদানের টাকা কোথায় খরচ করা হচ্ছে, তার হিসেব বা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে পুজা কমিটি গুলোকে। কিন্তু মামলাকারীর আইনজীবীর অভিযোগ, অনেক পুজো কমিটি সেই হিসেব বা শংসাপত্র জমা দেয়নি। তারপরই আদালত এই নিয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চায়। বুধবার আদালতে সেই তথ্য দেয় রাজ্য।
তারপরে আদালত পরিষ্কার জানিয়ে দিল, আদালতের নির্দেশ মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যে সমস্ত পুজো কমিটি খরচের হিসেব বা উইটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দেয়নি, তারা আর অনুদান (Durga Puja Grants) পাবে না। যারা হিসেব দিয়েছি তারাই অনুদান পাবে। তবে নতুন যে সব ক্লাব এবছর সংযোজিত হয়েছে, তাদেরকে এই হিসেবের তালিকার বাইরে রাখা হবে। গত বছর যে সব ক্লাবগুলিকে টাকা দেওয়া হয়েছিল, তাদেরকেই এই হিসেব দিতে হবে।