Last Updated on [modified_date_only] by Sumana Bera
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ওবিসি শংসাপত্র মামলার পরবর্তী শুনানি একমাস পর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর হবে বলেই জানিয়ে দিল প্রধান বিচারপতি বিআর গবাইয়ের বেঞ্চ। ওবিসি শংসাপত্র (OBC Certificate Case) বিজ্ঞপ্তি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিল রাজ্য। রাজ্যের পক্ষ থেকে এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের দ্রুত শুনানির আবেদন খারিজ করে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি বিআর গবাইয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে একমাস পর। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর হতে পারে শুনানি।
ওবিসি শংসাপত্র মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। রাজ্যের পক্ষ থেকে দ্রুত শুনানির আর্জি জানানো হয়েছিল। গতকাল অর্থাৎ সোমবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু সময়ের অভাবে তা হয়নি। ওবিসি শংসাপত্রের মামলা একমাস পিছিয়ে দেওয়া হয়। তারপরই ওবিসি জট কাটাতে রাজ্যের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। রাজ্যের আইনজীবী সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, ওবিসি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি নিয়ে একাধিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এই নিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট একের পর এক নির্দেশ দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: Ballygunge: আইনজীবীর রহস্যমৃত্যু, আত্মহত্যা নাকি?
তাই এই জট কাটাতে এই মামলা দ্রুত শুনানি হোক। রাজ্যের আইনজীবী আগামী বৃহস্পতিবার অথবা আগামী সোমবার এই মামলার শুনানির আবেদন জানান সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে। কিন্তু রাজ্যের সেই আর্জি খারিজ করে প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন মামলাটি তালিকা থেকে বাদ যাবে না এবং নতুন করে তালিকাও তৈরি করা হবে না। ওবিসি বিজ্ঞপ্তি (OBC Certificate Case) মামলার শুনানি নির্ধারিত দিনে অর্থাৎ আগামী ৯ সেপ্টেম্বর হবে বলেই জানিয়ে দিল প্রধান বিচারপতি বিআর গবাইয়ের বেঞ্চ।
হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য (OBC Certificate Case)
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের ফল প্রকাশের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক চন্দ নির্দেশ দিয়েছিলেন, নতুন করে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার মেধা তালিকা ১৫ দিনের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। ওবিসি পড়ুয়াদের জন্য পূর্বের মতো ৭ শতাংশ সংরক্ষণই বরাদ্দ থাকবে। তা ছাড়া, নতুন ওবিসি তালিকা মেনে মেধাতালিকা প্রকাশ করা যাবে না। তালিকা প্রকাশ করতে হবে পুরনো বিধি মেনে। অর্থাৎ, ২০১০ সালের আগের অন্তর্ভুক্ত ৬৬টি ওবিসি সম্প্রদায়ের তালিকার ভিত্তিতেই নতুন মেধাতালিকা তৈরি করতে হবে। হাইকোর্টের এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার।
নবান্ন সূত্রে জানা যায়, কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে রাজ্য। গত শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে ওবিসি বিজ্ঞপ্তি (OBC Certificate Case) মামলার সঙ্গে জয়েন্টের মেধাতালিকা প্রকাশের কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জের এই আবেদনটিও জুড়ে দেওয়ার কথা ছিল রাজ্যের। কিন্তু গত সোমবার ওবিসি বিজ্ঞপ্তি মামলার শুনানি একমাস পিছিয়ে যাওয়ায় সেটা আর হচ্ছে না বলেই মনে করছেন এই মামলার সঙ্গে যুক্ত আইনজীবীরা। ফলে বিচারপতি কৌশিক চন্দর ১৫ দিনের মধ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার নতুন মেধাতালিকা প্রকাশের নির্দেশই বহাল থাকছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
আরও পড়ুন: Nabagram, Murshidabad: বাংলাদেশি এক মহিলা গ্রেফতার, কিন্তু কেন?
ওবিসি বিজ্ঞপ্তি মামলার শুনানি পিছিয়ে যাওয়ার ফলে ওই আবেদনটির শুনানি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেক্ষেত্রে জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষার মেধাতালিকা প্রকাশ নিয়ে আলাদা করে সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করা হতে পারে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। ওবিসি জটের জেরে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের ফলপ্রকাশও আটকে রয়েছে। অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যৎ।
২০১০ সালের পর সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট (OBC Certificate Case)
দুর্নীতির অভিযোগে ২০১০ সালের পর রাজ্যে ইসু হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট (OBC Certificate Case) বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ ছিল, সামাজিক, আর্থিক এবং পেশাগত ভাবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমীক্ষা করতে হবে। তার পর নতুন করে ওবিসি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। ২০১০-এর আগে পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি বলে ধরা হত। ২০১০ সালে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে ৪২টি এবং ২০১২ সালে তৃণমূল সরকারের আমলে আরও ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাদেরকেই বাতিল করে দেয় হাইকোর্ট।
হাইকোর্ট আরও জানায়, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যে ৬৬টি জনগোষ্ঠী অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অংশ ছিল কেবলমাত্র তাদেরই শংসাপত্র গ্রাহ্য হবে চাকরির নিয়োগ কিংবা কলেজে ভর্তিতে। ইতিমধ্যে রাজ্য একটি সমীক্ষা করে ওবিসি নিয়ে বিজ্ঞপ্তি (OBC Certificate Case) জারি করে। তার বিরুদ্ধেই হাইকোর্টে মামলা হয়। গত ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের সেই নির্দেশের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ জারি করে। হাইকোর্টের এই রায় নিয়ে রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে সেই ওবিসি বিজ্ঞপ্তি মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিন শুনানি হয়নি। এক মাস পিছিয়ে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।