ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: নিয়োগ দুর্নীতিতে (SSC Scam) সিবিআই-এর মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee), শান্তি প্রসাদ সিনহা, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, সুরেশ ভট্টাচার্য এবং অশোক সাহার জামিন না দেওয়ার যে রায় দিয়েছিলেন ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় সেটাই বহাল রাখলেন প্রধান বিচারপতির নির্দেশে গঠিত তৃতীয় বেঞ্চের বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী সিঙ্গেল বেঞ্চ। অর্থাৎ এই পাঁচজনের জামিন খারিজ করে দিলেন বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী।
নিয়োগ দুর্নীতিতে সিবিআই-এর (CBI) মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) সহ ৯ অভিযুক্তের জামিনের আবেদনের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta high court) বিচারপতি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় ভিন্নমত পোষণ করেছিলেন। চার মিডিলম্যান সহ ৯ জনেরই জামিন মঞ্জুর করেছিলেন বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। অপর বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় চার মিডিলম্যানের জামিন মঞ্জুর করলেও প্রভাবশালী তত্ত্বের ভিত্তিতে পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee), সুবিরেশ ভট্টাচার্য, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, শান্তি প্রসাদ সিনহা এবং অশোক সাহার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন।
২ বিচারপতি ভিন্নমত পোষন করায় মামলাটি যায় কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। প্রধান বিচারপতি এই মামলাটি শুনানি করে চূড়ান্ত রায়দানের জন্য পাঠান তৃতীয় বেঞ্চে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর সিঙ্গেল বেঞ্চে। গত সপ্তাহেই তপব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষ হয়েছিল। রায়দান স্থগিত রেখেছিলেন।
আরও পড়ুন: https://tribetv.in/on-christmas-last-metro-timing-changed-in-kolkata-metro/
মঙ্গলবার সেই মামলার রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়ের রায়ই বহাল রাখলেন। অর্থাৎ পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee), শান্তি প্রসাদ সিনহা, কল্যাণময় গঙ্গোপাধ্যায়, সুবীরেশ ভট্টাচার্য এবং অশোক সাহার জামিন খারিজ করে দিলেন তিনিও। রায় ঘোষণা করতে গিয়ে বিচারপতি চক্রবর্তী তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের চাকরি পাওয়ার বিষয়টি আদালতের সামনে এসেছে। এমনটা হলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে। তাছাড়া ওএমআর শিট পরিবর্তন, তথ্য প্রমাণ লোপাটের অভিযোগও সামনে এসেছে। বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায় এই সমস্ত দিক বিবেচনা করেই যে রায় দিয়েছিলেন সেটা সম্পূর্ণ সঠিক।
আরও পড়ুন: https://tribetv.in/high-court-did-not-intervene-in-new-case-of-rg-kar-case/
তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণে আরও বলেন, প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের (Partha Chatterjee) বিচার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্যপাল অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু বাকি চারজনের ক্ষেত্রে এখনও সেই অনুমতি দেননি রাজ্যের মুখ্য সচিব। আদালত তাঁর থেকে বার বার রিপোর্ট তলব করলেও তিনি বারবার বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সময় চেয়ে নিয়েছেন। কখনও নির্বাচনের কারণে সময় চেয়েছেন। এই ব্যাপারে রাজ্য কেন সম্পূর্ণ চুপ? এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে এই পাঁচজনের সঙ্গে রাজ্যের একটা গোপন আঁতাত রয়েছে। তাই এঁরা যদি জামিন পেয়ে যান তাহলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।