ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : দক্ষিণবঙ্গে ফের ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণের ঘটনা (Patharpratima Blast)। এবার ঘটনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার অন্তর্গত দক্ষিণ রায়পুরের ৩ নম্বর ঘেরিতে। সোমবার রাতে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণে (Patharpratima Blast) এক পরিবারের তিনটি শিশু সহ সাত সদস্য প্রাণ হারান। পরে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি অন্য একজনের মৃত্যু হয় মঙ্গলবার সকালে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল আট। এদিকে ইতিমধ্যেই বাজি কারখানার মালিক দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করেছে পুলিশ।
পাথরপ্রতিমা বাজি বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৮ (Patharpratima Blast)
বাজি বিস্ফোরণের (Patharpratima Blast) ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গোটা ঘটনাস্থল এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মঙ্গলবার সকালেও গোটা এলাকায় শোকের ছায়া। বিস্ফোরণটি ঘটেছে বণিক পরিবারের বাড়িতেই, যেখানে বাজির ব্যবসা পরিচালনা করতেন তুষার বণিক ও চন্দ্রকান্ত বণিক। এই বিস্ফোরণে প্রাণ হারিয়েছেন তুষার ও চন্দ্রকান্ত বণিকের বাবা অরবিন্দ বণিক (৬৫), ঠাকুমা প্রভাবতী বণিক (৮০), চন্দ্রকান্তের দুই সন্তান অর্ণব বণিক (৯) ও অস্মিতা বণিক (৮ মাস), তুষারের দুই সন্তান অনুষ্কা বণিক (৬) ও অঙ্কিত বণিক (৬ মাস), এবং চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্ত্বনা বণিক (২৮)। তুষারের স্ত্রী সুতপা বণিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সোমবার রাতে, তবে আজ সকালে তিনি মারা যান। জানা গেছে, তাঁর শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল।
সবুজ বাজি তৈরির ‘লাইসেন্সে’র আড়ালে অবৈধ বাজির কারবার? (Patharpratima Blast)
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাজির ব্যবসা পরিচালনা করছিল ওই বণিক পরিবার। তাদের কাছে সবুজ বাজি তৈরির জন্য অনুমোদিত লাইসেন্স ছিল। তবে, ওই লাইসেন্সের আড়ালে অবৈধ বাজি তৈরির কাজ চলছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দিন কয়েকের মধ্যে এলাকায় বাসন্তী পুজো রয়েছে। সেই উপলক্ষে সোমবার রাতে পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানা এলাকার বাসিন্দা চন্দ্রকান্ত বণিকের বাড়িতে বেআইনিভাবে বাজি তৈরি হচ্ছিল বলেই সূত্রের খবর। রাত ন’টা নাগাদ আচমকাই বাজির স্তূপে আগুন ধরে যায় (Patharpratima Blast)। তা থেকেই বিপত্তি। জানা গিয়েছে, বাড়িতে একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার রাখা ছিল। আগুনের তাপে সেগুলি ফাটতে শুরু করে। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গোটা বাড়ি।
NIA তদন্তের দাবি বিজেপির
তদন্তের জন্য ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে নমুনা সংগ্রহ করছে। বিস্ফোরণস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্ফোরণের জায়গার পাশের একটি ঘর থেকে বাজি তৈরির মশলা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার হয়েছে, পাশাপাশি প্রচুর তারও পাওয়া গেছে। বিস্ফোরণের জায়গার আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে রয়েছে অনেকগুলো বারুদ ভর্তি ড্রাম। এই ঘটনায় NIA তদন্তের দাবি করেছে বিজেপি (BJP)।
আরও পড়ুন : Fake Madicine: জীবনদায়ী ওষুধও জাল! জাল ওষুধের চক্রের পিছনে স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতি?
দুই মালিকের বিরুদ্ধে জামিন্য অযোগ্য ধারায় মামলা
বিস্ফোরণের সময় বাড়িতে ছিলেন না তুষার, চন্দ্রকান্ত ও তাঁদের মা। ফলে বণিক পরিবারের ওই তিন সদস্য বেঁচে গিয়েছেন।সোমবার রাতের ওই দুর্ঘটনায় ইতিমধ্যে পদক্ষেপ করেছে পুলিশও।বাজি ব্যবসায়ী পরিবারের দুই সদস্য চন্দ্রকান্ত বণিক এবং তাঁর ভাই তুষারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করেছে ঢোলাহাট থানা। ঘরে বিপজ্জনক বস্তু মজুত রাখা, অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা-সহ মোট ছ’টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। দমকল আইনেও মামলা রুজু হয়েছে দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন : Birbhum Acid Attack Case: বিয়ের প্রস্তাবে রাজি নয়, প্রেমিকার মুখে অ্য়াসিড ছোড়ে যুবক
এদিকে বিস্ফোরণের পর গোটা রাত পেরিয়ে গেলেও এখনও আতঙ্কে কাঁটা এলাকার বাসিন্দারা। সকলেরই দাবি, জনবসতির মাঝে বাজি কারখানা নিয়ে বহুবার আপত্তি জানিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তাতে কেউ কর্ণপাত করেনি।