Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল : আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার শিরোনামে(Russia Ukraine Conflict)। সোমবার হোয়াইট হাউসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগেই তিনি ইউক্রেনের দুটি প্রধান দাবি সরাসরি খারিজ করে দিলেন। ক্রিমিয়া ফেরত পাওয়া যাবে না এবং ইউক্রেনকে নেটো-তে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব নয়—এই বার্তাই পৌঁছে দিয়েছেন ট্রাম্প। ফলে বৈঠকের আগে কার্যত কূটনৈতিক চাপের মুখে পড়ে গেলেন জেলেনস্কি।
ট্রাম্পের বার্তা “কিছু জিনিস বদলায় না” (Russia Ukraine Conflict)
সোমবার ভোরে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী সকাল ৬টা ৪৭ মিনিটে) সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, “ওবামার দেওয়া ক্রিমিয়া আর ফেরত পাবেন না(Russia Ukraine Conflict)। আর নেটো-তেও ইউক্রেন ঢুকতে পারবে না। কিছু জিনিস আর বদলায় না।” তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধ থামানোর দায় এখন ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের ঘাড়েই। ট্রাম্পের কথায়, “জেলেনস্কি এখনই রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামাতে পারেন, যদি তিনি চান। অবশ্য তিনি চাইলে যুদ্ধ চালিয়ে যেতেও পারেন। কেবল মনে রাখবেন, এই যুদ্ধ কীভাবে শুরু হয়েছিল।”
জেলেনস্কির প্রতিক্রিয়া “শান্তি চাই, কিন্তু শর্তহীন নয়” (Russia Ukraine Conflict)
ট্রাম্পের (Donald J. Trump) পোস্টের কিছুক্ষণ পরেই ওয়াশিংটনে পৌঁছে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান জেলেনস্কি(Russia Ukraine Conflict)। তিনি লিখেছেন, “আমরা সকলেই চাই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হোক এবং শান্তি স্থায়ী হোক। কিন্তু আগের মতো নয়। এর আগে আমাদের ক্রিমিয়া ও ডনবাসের একাংশ ছেড়ে দিতে হয়েছিল।” ইঙ্গিত স্পষ্ট—ক্রিমিয়ার প্রশ্নে কোনও আপস করতে রাজি নন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট।

আরও পড়ুন : Ukraine Russia Ceasefire : নেটোয় যোগদান স্থগিত, একটি শর্তে যুদ্ধ বিরতিতে রাজি রাশিয়া
ক্রিমিয়ার ঘটনা (Russia Ukraine Conflict)
২০১৪ সালে ওবামার আমলে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্টকে গদিচ্যুত করে সংসদ। এরপরই রাশিয়া ক্রিমিয়া দখল করে নেয়। মস্কোর দাবি ছিল, এটি পশ্চিমি শক্তির মদতপুষ্ট অভ্যুত্থানের প্রতিক্রিয়া। রাশিয়া বলেছিল, রুশ নাগরিক ও স্বার্থ রক্ষার জন্যই ক্রিমিয়া দখল প্রয়োজনীয় ছিল। কিন্তু ইউক্রেন ও পশ্চিমা দেশগুলি এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ বলে অভিহিত করে। সেই সময় থেকেই ইউক্রেন নেটোতে যোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।
রাশিয়ার পক্ষে দাঁড়ালেন ট্রাম্প? (Russia Ukraine Conflict)
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, ট্রাম্প কার্যত রাশিয়ার অবস্থানকেই মান্যতা দিলেন। ক্রিমিয়া দখলকে স্থায়ী বলে মেনে নেওয়া এবং নেটো-র দরজা বন্ধ রাখা পুতিনের প্রধান দাবি। ফলে জ়েলেনস্কি ওয়াশিংটনে আসার আগেই একপ্রকার কূটনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থানে পড়েছেন।

আরও পড়ুন : India On Trump Putin Meeting : আমেরিকা-রাশিয়া বৈঠক নিয়ে আশাবাদী ভারত, তেল শুল্ক নিয়ে কী জানালেন ট্রাম্প ?
কীভাবে যুদ্ধবিরতি হবে? (Russia Ukraine Conflict)
আলাস্কায় পুতিনের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ বৈঠক’ দাবি করার পর হোয়াইট হাউসের আলোচনাই এখন মূল কেন্দ্রবিন্দু। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারাও উপস্থিত থাকবেন(Russia Ukraine Conflict)। প্রশ্ন একটাই—ট্রাম্পের এই অবস্থানের পর ইউক্রেন কীভাবে যুদ্ধবিরতির পথে অগ্রসর হবে? জ়েলেনস্কি কি শান্তির টেবিলে বসতে বাধ্য হবেন, নাকি তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেবেন?