Last Updated on [modified_date_only] by Megha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ‘বিজেপির তোতাপাখি।’ দেশের জরুরি অবস্থার তীব্র সমালোচনা করে দলের অন্দরেই তোপের মুখে পড়েছেন কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর(Emergency)। সম্প্রতি শশী থারুরকে নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়ছে কংগ্রেসের। প্রায় দিনই নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রশংসায় মেতেছেন তিরুবনন্তপুরের কংগ্রেস সাংসদ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করে লিখছেন নিবন্ধও। যার জেরে দলীয় শৃঙ্খলার পরোয়া না করে নিজের দলকেই কার্যত বিপাকে ফেলছেন তিনি। এবার খোদ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছেন থারুর।
শশী থারুরের সমালোচনায় কংগ্রেস (Emergency)
শশী থারুর সম্প্রতি মালায়ালাম দৈনিক ‘দীপিকা’-তে একটি প্রবন্ধে জরুরি অবস্থা নিয়ে তাঁর মতামত প্রকাশ করেছেন(Emergency)। প্রবন্ধে থারুর দাবি করেছেন যে, ভারতীয় ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে শুধু জরুরি অবস্থাকে স্মরণ করা উচিত নয়, বরং এর জটিলতা এবং শিক্ষাগুলি পুরোপুরি বোঝার প্রয়োজন। তবে এই প্রবন্ধের পর লোকসভায় কংগ্রেসের হুইপ মণিকম ঠাকুর দলীয় সহকর্মী শশী থারুরকে তোতাপাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন।নিজের এক্স-হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘যখন কোনও সহকর্মী বিজেপির কথাগুলোই অক্ষরে অক্ষরে আউরাতে শুরু করেন, তখন আপনি ভাবতে শুরু করেন-পাখিটি কি তোতাপাখি হয়ে যাচ্ছে?পাখিদের মধ্যে মিমিক্রি কিউট, কিন্তু রাজনীতিতে নয়।’

বিজেপির সমর্থন (Emergency)
অন্যদিকে, নিজের দলের অন্দরে যখন সমালোচনার মুখে পড়েছেন শশী, তখন তাঁকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি(Emergency)। বিজেপি নেতা সুধাংশু ত্রিবেদী বলেছেন, ‘এটি বিরোধী দলের বিশ্বাসকে তুলে ধরে যে সাংবিধানিক সংস্থাগুলির বৈধতা তাদের নির্বাচনের জয় বা পরাজয়ের উপর নির্ভর করে।’ ওই নিবন্ধে থারুর লেখেন, ‘ইমার্জেন্সির সময় যে বাড়াবাড়ি হয়েছিল, তা অনেকটাই আড়াল করা হয়েছে।’ তিনি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধির ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর ভূমিকা এবং জোরপূর্বক পুরুষদের নির্বীজকরণ (নাসবন্দি) সমালোচনা করেন। ১৯৭৫-এ কীভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছিল, কীভাবে বিরোধীদের দমন, বিচার বহির্ভূত হত্যা এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করাটা দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছিল তা উল্লেখ করেছেন।

ইন্দিরা গান্ধীকে নিশানা শশী থারুরের (Emergency)
তিরুবনন্তপুরমের কংগ্রেস সাংসদের বক্তব্য, ‘ইন্দিরার সময় গণতন্ত্রের সব স্তম্ভকে মৌন করে রাখা হয়েছিল(Emergency)। বিচার বহির্ভূত হত্যা আকছার ঘটত।’এই নিবন্ধ প্রকাশ্যে আসার পর অনেকে মনে করছেন, থারুর বিজেপির সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন। অন্যদিকে, এই মুহূর্তে দলের মধ্যেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অপারেশন সিঁদুরের জয়গান গেয়ে পবন খেরা, উদিত রাজ, জয়রাম রমেশের মতো নেতাদের তোপের মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। শশী এআইসিসি সদস্য। কংগ্রেস সভাপতি পদে নির্বাচন লড়েছিলেন। এহেন নেতা লাগাতার প্রকাশ্যে দলের অবস্থানের উলটো পথে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সার্টিফিকেট দিয়েছেন, তাতে অস্বস্তিতে পড়েছে দল।
আরও পড়ুন-Shashi Tharoor: ‘আগে ঠিক করুন কোন দলে…,’ কেরলের মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে কংগ্রেসেই তোপের মুখে শশী
জরুরি অবস্থা (Emergency)
এমনিতেই বিজেপি গত কয়েকবছর ধরে কংগ্রেস সরকারের জরুরি অবস্থা জারির ঘটনাকে খুঁচিয়ে তুলেছে(Emergency)। দেশের রাজনীতিতে ‘ইমার্জেন্সি’ এখন এক অন্যতম বিতর্কিত ইস্যুও। বিজেপি সরকার ২৫ জুন দিনটিকে ‘সংবিধান হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করতে শুরু করার পর থেকে বিতর্ক আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-সহ শাসকদলের শীর্ষ নেতারা জরুরি অবস্থাকে স্বাধীন ভারতের ‘সবচেয়ে অন্ধকার সময়’ বলে আখ্যা দিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করছেন।
