Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আধুনিক ভূরাজনীতির টানাপোড়েন যত বাড়ছে, ততই সমুদ্রপথে তথ্য সংগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র ট্র্যাকিং, সাবমেরিন শনাক্তকরণ এবং সমুদ্রতল অবকাঠামো রক্ষার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা জাহাজের গুরুত্ব বাড়ছে(Top 10 Spyship In world)। এগুলোকে একপ্রকার ভাসমান নজরদারি ঘাঁটি বলা যায়। উন্নত রাডার, সিগন্যাল প্রসেসিং সিস্টেম এবং গভীর সমুদ্রের যানবাহন নিয়ে এই জাহাজগুলো কাজ করে থাকে। এবার দেখা যাক বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তির ১০টি গোয়েন্দা সামরিক জাহাজের ক্ষমতা ও ভূমিকা।
১. USNS Howard O. Lorenzen (যুক্তরাষ্ট্র) (Top 10 Spyship In world)
মার্কিন নৌবাহিনীর এই বিশাল জাহাজটি একপ্রকার ভাসমান রাডার প্ল্যাটফর্ম। এতে বসানো আছে কোবরা কিং নামের অত্যাধুনিক এসএ রাডার, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার প্রতিটি তথ্য সংগ্রহ করে। ২০১৪ সালে অপারেশনাল হওয়ার পর থেকে এটি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত সম্পদ।
২. USNS Invincible (যুক্তরাষ্ট্র) (Top 10 Spyship In world)
এই জাহাজটিও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ট্র্যাক করার জন্য বিশেষায়িত। কোবরা জেমিনি নামের ডুয়াল ব্যান্ড রাডার ব্যবহার করে এটি থিয়েটার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উড়ান পর্যবেক্ষণ করে। মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্র অঞ্চলে এর উপস্থিতি বহুবার আলোচনায় এসেছে।
৩. Type 815A (চিন) (Top 10 Spyship In world)
চীনের টাইপ ৮১৫এ গোয়েন্দা জাহাজ বিশাল আকারের এবং অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক নজরদারি সরঞ্জাম বহন করে। বিদেশি নৌমহড়া পর্যবেক্ষণ, যোগাযোগ সিগন্যাল আটকানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তথ্য সংগ্রহে এগুলো ব্যবহৃত হয়। চীনের তথ্যযুদ্ধে এগুলো বিশেষ ভূমিকা রাখছে।
৪. Dupuy de Lôme (ফ্রান্স) (Top 10 Spyship In world)
ফরাসি নৌবাহিনীর এই জাহাজটি সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্স বা SIGINT–এর জন্য নির্মিত। এটি রেডিও, রাডার ও স্যাটেলাইট সিগন্যাল শুনে এবং বিশ্লেষণ করে। বাল্টিক থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চলে নিয়মিত টহল দিয়ে থাকে।
৫. Yantar (রাশিয়া)
রুশ নৌবাহিনীর ইয়ান্তার নামমাত্রে গবেষণা জাহাজ হলেও এর প্রকৃত কাজ অনেক গভীর। এটি সমুদ্রতলের সেন্সর, সাবমেরিন কেবল এবং অবকাঠামো পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। পশ্চিমা দেশগুলির আশঙ্কা, এটি গুপ্তচরবৃত্তি এবং সাইবার হুমকির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে।

আরও পড়ুন : Gaganyaan Mission ISRO : ডিসেম্বরেই ইসরোর গগনযানের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ, ভারত প্রস্তুত জানালেন শুভাংশু
৬. INS Dhruv (ভারত)(Top 10 Spyship In world)
ভারতের প্রথম বৃহৎ ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং জাহাজ ধ্রুব এনটিআরও, ডিআরডিও(DRDO) এবং নৌবাহিনী যৌথভাবে পরিচালনা করে। এর বিশাল রাডার ডোমে এক্স ব্যান্ড ও এস ব্যান্ড রাডার রয়েছে, যা কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং মহাকাশ সম্পদ পর্যবেক্ষণে সক্ষম।
৭. Hibiki (জাপান)
জাপানের হিবিকি শ্রেণির জাহাজগুলো SWATH নকশায় তৈরি। এতে রয়েছে উন্নত টোড অ্যারে সোনার সিস্টেম, যা দীর্ঘ দূরত্বে সাবমেরিন শনাক্ত করতে পারে। এগুলো মার্কিন–জাপানি যৌথ আন্ডারসি সার্ভেইলেন্স সিস্টেমের অংশ হিসেবে কাজ করে।
৮. RFA Proteus (যুক্তরাজ্য)(Top 10 Spyship In world)
রয়্যাল ফ্লিট অক্সিলিয়ারির প্রোটিয়াস সমুদ্রতল সুরক্ষার জন্য বিশেষভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি মানববিহীন আন্ডারওয়াটার যান পরিচালনা করতে পারে, সমুদ্রতলের কেবল ও পাইপলাইন রক্ষা করে এবং গভীর সমুদ্রের নজরদারি চালায়। ব্রিটেনের সিবেড ওয়ারফেয়ার সক্ষমতার প্রতীক হিসেবে এটি সম্প্রতি যুক্ত হয়েছে।

৯. Monge (ফ্রান্স)
ফরাসি নৌবাহিনীর মোঁজ একটি বড় আকারের ক্ষেপণাস্ত্র ও স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং জাহাজ। এতে রয়েছে একাধিক শক্তিশালী রাডার, টেলিমেট্রি অ্যান্টেনা এবং অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম। ফরাসি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা ও মহাকাশ গবেষণায় এটি বহুদিন ধরে সক্রিয়।
১০. Marjata (নরওয়ে)
নরওয়ের ইলেকট্রনিক ইন্টেলিজেন্স জাহাজ মারইয়াটা উত্তর ইউরোপে বিশেষভাবে পরিচিত। এটি আর্কটিক অঞ্চলে রুশ নৌতৎপরতা পর্যবেক্ষণ করে। নরওয়েজিয়ান ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস পরিচালিত এই জাহাজকে উত্তর ইউরোপের সবচেয়ে উন্নত গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ধরা হয়।

আরও পড়ুন : US Tariff On India : আমেরিকার শুল্কে ‘হতবাক’ নয়াদিল্লি, মস্কো থেকে প্রতিক্রিয়া জয়শঙ্করের
কেন এই দশটি জাহাজ আলাদা ? (Top 10 Spyship In world)
এই গোয়েন্দা জাহাজগুলোর মধ্যে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তথ্য সংগ্রহে বিশেষজ্ঞ, কিছু সিগন্যালস ইন্টেলিজেন্সে, আবার কিছু সমুদ্রতল অবকাঠামো রক্ষায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লরেনজেন ও ইনভিনসিবল ক্ষেপণাস্ত্র তথ্য সংগ্রহে অগ্রণী। চীনের টাইপ ৮১৫এ ও ফ্রান্সের ডুপুই দ্য লোম ইলেকট্রনিক সিগন্যাল আটকাতে বিশেষ পারদর্শী। রাশিয়ার ইয়ান্তার এবং যুক্তরাজ্যের প্রোটিয়াস সমুদ্রতল নজরদারিতে নতুন অধ্যায় সূচনা করেছে। আর ভারত, জাপান ও নরওয়ে নিজেদের আঞ্চলিক নিরাপত্তায় স্বতন্ত্র সক্ষমতা তৈরি করেছে।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ(Top 10 Spyship In world)
গোয়েন্দা জাহাজ এখন শুধু বড় রাডার বহন করে না, বরং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা–সমর্থিত সিগন্যাল বিশ্লেষণ, স্যাটেলাইট লিঙ্কের মাধ্যমে রিয়েল টাইম তথ্য শেয়ারিং এবং মানববিহীন আন্ডারওয়াটার যান যুক্ত হচ্ছে। আগামী দিনে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে এই গোয়েন্দা জাহাজগুলো হবে অন্যতম প্রধান অস্ত্র।
সব মিলিয়ে বলা যায়, তথ্যই আজকের যুগের প্রকৃত শক্তি। আর সমুদ্রপথে সেই তথ্য সংগ্রহে এই ১০টি উন্নত গোয়েন্দা জাহাজ আধুনিক কৌশলগত রাজনীতিতে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করছে।