Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ভারতের উপর ৫০ শতাংশ আমদানি শুল্ক চাপানোর ফলে ‘বড় ধাক্কা’ খেয়েছে রাশিয়া (US Tariff On India)। যদিও তিনি সরাসরি ভারতের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে এই মন্তব্য ভারতের উদ্দেশেই করা।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মুহূর্তে—মাত্র কয়েকদিন পরই তিনি আলাস্কায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে যাচ্ছেন, যেখানে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করবেন বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, ভারতের উপর আরোপিত উচ্চ শুল্ক শুধু দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে না, বরং রাশিয়ার তেল রপ্তানিতেও বড়সড় আঘাত হেনেছে।
কেন এই শুল্ক চাপ? (US Tariff On India)
গত বছর থেকে মার্কিন প্রশাসন ভারতীয় পণ্যের উপর ধাপে ধাপে শুল্ক বৃদ্ধি করে আসছে। প্রথমে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, যার কারণ হিসেবে রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানিকে দায়ী করা হয় (US Tariff On India)। পরে আরও ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়।
ট্রাম্প (Donald J. Trump) প্রশাসনের যুক্তি—ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক, এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি বাণিজ্য মস্কোর অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করছে। এই শুল্কের মাধ্যমে ভারতকে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য কমাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসে সোমবারের প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন—
“আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল ক্রেতা দেশকে জানিয়েছে, রাশিয়ার থেকে তেল কিনলে ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এটি রাশিয়ার জন্য একটি বড় ধাক্কা।”
যদিও তিনি দেশের নাম বলেননি, বিশ্লেষকদের মতে এখানে ভারতের কথাই তিনি ইঙ্গিত করেছেন।
ভারতের প্রতিক্রিয়া — ‘অন্যায্য ও অযৌক্তিক’ (US Tariff On India)
ভারত সরকার শুরু থেকেই স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দেশের স্বার্থের সঙ্গে কোনওরকম আপস করা হবে না (US Tariff On India)। পররাষ্ট্র মন্ত্রকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“আমরা ন্যায্য আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতে বিশ্বাসী। শুধুমাত্র রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে এই শুল্ক চাপানো অন্যায্য এবং অযৌক্তিক।”
কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল আরও একধাপ এগিয়ে বলেন—
“আজকের ভারত কোনও চাপের কাছে মাথা নত করবে না। আমরা শক্তিশালী অর্থনীতি, এবং আমাদের নিজস্ব কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষা করব।”
ভারতের দাবি—রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য শুধু জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধ নয়। আমেরিকা নিজেও রাশিয়া থেকে পারমাণবিক শিল্পের জন্য ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালাডিয়াম, সার ও রাসায়নিক আমদানি করে থাকে, যা যুদ্ধকালেও অব্যাহত রয়েছে। সেক্ষেত্রে, শুধু ভারতের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপ দ্বিচারিতা ছাড়া কিছু নয়।

আরও পড়ুন : US China Tariff : শুল্কযুদ্ধে নতুন বিরতি! দর কষাকষির সময় বাড়িয়ে ফের ৯০ দিনের জন্য শুল্কছাড়ের ঘোষণা
রাশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব (US Tariff On India)
মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে রাশিয়ার অর্থনৈতিক দুরবস্থার কথাও উঠে এসেছে (US Tariff On India)। ট্রাম্প বলেন—
“রাশিয়ার অবস্থা ভালো নয়, বিশেষ করে অর্থনীতি মারাত্মক চাপের মুখে। এই শুল্ক তাদের জন্য একটি বড় আঘাত।”
বিশ্লেষকদের মতে, ভারত রাশিয়ার তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠায়, রুশ অর্থনীতিতে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উচ্চ শুল্কের ফলে ভারতীয় তেল আমদানি কমে গেলে মস্কোর আয়ে উল্লেখযোগ্য হ্রাস হতে পারে।
কূটনৈতিক টানাপোড়েন (US Tariff On India)
ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপ শুধু বাণিজ্য নয়, কূটনৈতিক সম্পর্কেও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে (US Tariff On India)। ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন কূটনৈতিক বিরোধ সামনে এসেছে—
- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে অবস্থানগত পার্থক্য
- রুশ তেল আমদানি বিষয়ে মার্কিন চাপ
- বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসন্ন পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের আগে রাশিয়াকে সংকেত দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হলেও, এর প্রভাব ভারত-মার্কিন সম্পর্কেও পড়বে।
ভারতের দৃঢ় অবস্থান (US Tariff On India)
নয়াদিল্লি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, রাশিয়া ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদার, এবং প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও অবকাঠামো উন্নয়নে এই অংশীদারিত্ব অব্যাহত থাকবে। সরকারের অবস্থান—
- ভারত নিজস্ব স্বার্থে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিচালনা করবে
- তৃতীয় দেশের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না
- আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ না করেই রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে

আরও পড়ুন : Trump On BLA : বিএলএ ও ‘মজিদ ব্রিগেড’কে বিদেশি জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা করল আমেরিকা!
বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব (US Tariff On India)
এই শুল্ক সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু ভারত বা রাশিয়ায় সীমাবদ্ধ থাকবে না (US Tariff On India)।
- জ্বালানি বাজার: ভারতের তেল আমদানি কমলে বিশ্ববাজারে চাহিদা ও দামের ওঠানামা বাড়তে পারে।
- ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য: আমেরিকার এই কৌশল রাশিয়াকে চীনের দিকে আরও বেশি ঝুঁকতে বাধ্য করতে পারে।
- দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীলতা: ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েন পাকিস্তানসহ অন্যান্য আঞ্চলিক খেলোয়াড়দের জন্য নতুন কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী? (US Tariff On India)
আসন্ন পুতিন-ট্রাম্প বৈঠকের ফলাফল এখন সবার নজরে (US Tariff On India)। যদি বৈঠকে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধান নিয়ে অগ্রগতি হয়, তাহলে হয়তো শুল্কনীতিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে যদি যুদ্ধ অব্যাহত থাকে, তাহলে এই উচ্চ শুল্ক দীর্ঘমেয়াদি হয়ে উঠতে পারে, যা ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। ট্রাম্পের মন্তব্য ও শুল্কনীতি শুধু অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যম নয়, বরং একধরনের কূটনৈতিক বার্তা—যা একসঙ্গে রাশিয়া ও ভারত উভয়কেই উদ্দেশ্য করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভারতের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ভূ-রাজনীতির খেলায় তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন থাকবে।