ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: স্বাধীনতাপন্থী সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্যে ইজ়রায়েলি সেনার টানা অভিযানে প্রতিদিন ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে গাজ়ার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা (UN Report)। রাষ্ট্রপুঞ্জের প্যালেস্টাইনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ-র (UNRWA) রিপোর্টে উঠে এসেছে এক মর্মান্তিক পরিসংখ্যান—গত ১৮ মার্চ থেকে গাজ়ায় প্রতিদিন অন্তত ১০০ জন শিশু নিহত বা গুরুতর আহত হচ্ছে।
হামাস বিরোধী অভিযান (UN Report)
ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু-র (Benjamin Netanyahu) নির্দেশে মার্চের গোড়ায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজ়ায় (UN Report) নতুন করে হামাস বিরোধী অভিযান শুরু করে ইজ়রায়েলি সেনা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত হামাসকে সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। তার বদলে যুদ্ধের ছায়ায় জর্জরিত গাজ়া ভূখণ্ডের পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে আরও বিপন্ন, বিশেষ করে শিশু ও সাধারণ মানুষের জন্য।
গাজ়ায় ধ্বংসের ছাপ (UN Report)
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আকস্মিক হামলার পর থেকেই ইজ়রায়েল শুরু করেছিল গাজ়ায় প্রবল প্রতিশোধমূলক অভিযান (UN Report)। শুরুতে উত্তর গাজ়া, পরে মধ্যভাগ এবং পরে দক্ষিণের শহর খান ইউনিস—সর্বত্র স্থল ও বিমান হামলায় ধূলিসাৎ হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি, স্কুল, হাসপাতাল, বাজার ও শরণার্থী শিবির। প্রায় পুরো ভূখণ্ডটাই এক ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।বর্তমানে ইজ়রায়েলি বাহিনীর নজরে রয়েছে গাজ়ার সবচেয়ে দক্ষিণের শহর রাফা। সেখানেও ইতিমধ্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে—স্থানীয় প্যালেস্টাইনিদের অঞ্চল ছেড়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এমন যে, রাফা শহরে রয়েছে কয়েক লক্ষ গৃহহীন প্যালেস্টাইনি শরণার্থী, যাঁরা ইতিমধ্যেই গাজ়ার অন্যান্য অঞ্চল থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছেন।

আরও পড়ুন: US Tariff War : ‘মুক্তি দিবসে’ পাল্টা আমদানি শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের! ভারতের উপর চাপলো ২৬ শতাংশ শুল্ক
রাফায় হামলার শঙ্কা (UN Report)
যদি রাফায় ইজ়রায়েল স্থল অভিযান শুরু করে, তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, তা গাজ়ার ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী পর্ব হয়ে উঠতে পারে (UN Report)। কারণ সেখানে কোনও পরিকাঠামো নেই, নেই পর্যাপ্ত খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা বা আশ্রয়ের ব্যবস্থা। রয়েছে শুধু যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষ, যারা কোথাও যেতে পারছে না।

আরও পড়ুন: Israel-Hamas: গাজ়ায় রক্তক্ষয়ী দিন! ইজ়রায়েলি হামলায় ১১২ জনের মৃত্যু গাজ়া ভূখণ্ডে
শিশুরা সবচেয়ে বড় শিকার (UN Report)
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, গাজ়ার এই সংঘাতে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত (UN Report)। যারা বেঁচে আছে, তারাও ক্ষুধা, আতঙ্ক, ও মানসিক বিপর্যয়ের শিকার। স্কুল নেই, নিরাপত্তা নেই, জীবনযাত্রার ন্যূনতম শর্ত নেই। প্রতিদিন হাসপাতালে পৌঁছানো শিশুদের শরীরে গুলি, বিস্ফোরণের ক্ষত কিংবা ভেঙে যাওয়া অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ—এই ভয়াবহ ছবি বিশ্বজুড়ে মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া (UN Report)
যুদ্ধবিরতির দাবি তুললেও ইজ়রায়েল এখনই অভিযান থামাবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। হামাসকে “পূর্ণ নির্মূল” না করা পর্যন্ত সেনা অভিযান চলবে—এমনটাই তাঁর ঘোষণা। এদিকে, বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও রাষ্ট্রপুঞ্জের আহ্বানেও পরিস্থিতির বদল ঘটেনি।এই মুহূর্তে রাফা শহরের ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তায় কাঁটা বিশ্ব। কীভাবে বাঁচবে লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের ভবিষ্যৎ—তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন। গাজ়ার মানুষ যেন প্রতিদিন বেঁচে আছেন মৃত্যুভয়ের ছায়ায়। এখন বিশ্ব নেতাদের পদক্ষেপই একমাত্র আশার আলো।