Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: বিশ্বের সবচেয়ে কাঠিন এবং গোপনীয় সামরিক অপারেশনগুলোতে যুক্ত থাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্পেশাল ফোর্স ইউনিট (US Special Forces)। প্রত্যেকটির নির্দিষ্ট দক্ষতা, শিক্ষা ও অপারেশনাল রোল আছে—সমুদ্র, বিমান, স্থল, বায়ু-চালিত হেলিকপ্টার, এবং গোপন গোয়েন্দা অভিযান করে থাকে এই বাহিনী গুলি। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ টি অপ্রতিরোধ্য স্পেশাল ফোর্স হল-
1) নেভি সীলস (US Special Forces)
নেভি সীলস (SEAL = Sea, Air, Land) হচ্ছে নেভালের স্পেশাল অপারেশন ইউনিট — জলভিত্তিক ইনসারশন, কনট্রা-টারর, পুনরুদ্ধার, রেইড এবং গোপনীয় নজরদারি অপারেশনে তারা দক্ষ। কোনো কক্ষপথ বা উপকূলীয় লক্ষ্য হোক, সীলস অত্যাধুনিক ডাইভিং, রেপেলিং, মুনফ্লায় ও দ্রুতরাত্রী অভিযানে প্রশিক্ষিত। অপারেশন নেপচুন স্পিয়র তাদের খ্যাতি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
2) ডেলটা ফোর্স (US Special Forces)
ফার্স্ট স্পেশাল ফোর্স অপারেশনাল ডিট্যাচমেন্ট-ডি, বা ডেলটা, যুক্তরাষ্ট্রের ‘টিয়ার-ওয়ান’ হোস্টেজ উদ্ধার ও কন্ট্রা-টেরর কাজের জন্য সবচেয়ে গোপন এবং দ্রুত-প্রতিক্রিয়াশীল ইউনিটগুলোর এক। তারা বিশেষ করে হাই-ভেলু টার্গেট, গোপন আক্রমণ ও কম্প্যাক্ট রুম/বিল্ডিং ফ্ল্যাশ-অউট মিশনে নিয়োজিত হয়। অপারেশনাল বায়োজান্দ্রিক বিবরণ সাধারণত শ্রেণীবদ্ধ থাকলেও ডেলটার প্রশিক্ষণ ও অভিযানের রেঞ্জ ব্যাপক।
3) গ্রিন বেরেটস (US Special Forces)
আর্মি স্পেশাল ফোর্স বা ‘গ্রিন বেরেটস’ নিজেদেরকে ‘আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে গড়ে তোলে—ভিন্ন ভাষা, স্থানীয় কৌশল, ও অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধ-এ পারদর্শী। তারা সাধারণত বিদেশি শক্তিকে প্রশিক্ষণ দেয়, বিদ্রোহী-বাহিনী পাহাড়ি পরিবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি অবরুদ্ধ পরিবেশে আন্তর্জাতিক কৌশল চালায়। হার্ড-কোমব্যাট ছাড়াও কৌশলগত প্রভাব গঠনের কাজ তাদের মূল।
4) ৭৫তম রেঞ্জার রেজিমেন্ট (US Special Forces)
রেঞ্জাররা হচ্ছে আর্মির ‘রেইড।’ তারা উচ্চগতির, নির্ভুল, রাতভিত্তিক রেইড অপারেশন, বিমানবন্দর দখল, এবং সরাসরি হামলায় ব্যবহার করা হয়। রেইঞ্জারদের প্রস্তুতি দ্রুত মোতায়েনযোগ্য ও কঠোর জৈবিক—তাই জরুরি অবস্থায় প্রথম ঢোকার দল হিসেবে তারা নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।
5) মারসক (US Special Forces)
মেরিন রেইডার্স (MARSOC) সমুদ্র ও স্থল উভয় পরিবেশেই ক্রস-ডোমেইন অপারেশন চালায়। ছোট, টাস্ক-অর্গানাইজড দলগুলো দিয়ে তারা বিশেষত স্পেশাল রিকন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন, ও কৌশলগত ধরন-ধারকের বিরুদ্ধে লক্ষ্য সহায়তায় নিয়োজিত থাকে। দ্রুত মোবাইলিটি এবং দুর্বল সংকট অঞ্চলে শক্তি প্রয়োগই তাদের মূল দিক।

আরও পড়ুন : Donald Trump On Putin : পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের আগে রাশিয়াকে ‘চোর’ বললেন ট্রাম্প, ভেস্তে যাবে বৈঠক?
6) ১৬০তম SOAR (US Special Forces)
১৬০তম স্পেশাল অপারেশন্স এভিয়েশন রেজিমেন্ট (Night Stalkers) বিশেষত রাতের অন্ধকারে হেলিকপ্টার ইনফিল/এক্সফিল, এমবোডি অ্যাসল্ট, এবং JSOC-সমর্থিত অনন্য মিশনগুলোর জন্য পরিচিত। অত্যন্ত প্রশিক্ষিত পাইলট ও আন্তর্জাতিক মানের হেলিকপ্টার ফ্লাইট ডেক দিয়ে তারা জটিল ইনফিলট্রেশন ও উদ্ধার অপারেশন করে।
7) প্যারারেস্কিউ (US Special Forces)
এয়ার ফোর্স প্যারারেস্কিউ অপারেটিভরা যুদ্ধক্ষেত্র ও দূরন্ত পরিবেশ থেকে আহত বা জিম্মি হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত। তারা প্যারাচুট, ডাইভিং, ক্লাইম্বিং সহ বিস্তৃত পরিবেশে কাজ করতে পারে এবং মানব-উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে বিশেষায়িত মেডিকেল স্কিলসমূহ বহন করে।
8) এয়ার ফোর্স স্পেশাল ট্যাকটিক্স (US Special Forces)
কমব্যাট কন্ট্রোলাররা আকাশ ও স্থলের মধ্যবর্তী কোরকার্য চালায়, অসমর্থিত জায়গায় ল্যান্ডিং জোন খুলে দেয়া, এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, ফায়ার কন্ট্রোল ও টার্গেটিং সমন्वয়। তারা নিজে হামলা চালাতে পারে এবং সামরিক বিমান সমর্থনকে স্বতন্ত্রভাবে পরিচালিত করে, ফলে জয়েন্ট অপারেশনে আকাশ-সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর হয়।
9) নেভি SWCC
SWCC-এর কাজ সীলসদের সহায়তায় দ্রুত কন্টাক্ট ক্রাফট চালানো—কোয়ালিটি ইনসারশন/এক্সফিল, কফরা-নিয়ন্ত্রণ ও উপকূলীয় পরিবেশে বিশেষ অপারেশন। তাদের জাহাজ ও ক্রু কৌশলে দ্রুত এবং কমপ্রোমাইজড পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম।

আরও পড়ুন : Pakistan Rocket Force : পাকিস্তান সেনায় যুক্ত হচ্ছে ‘আর্মি রকেট ফোর্স’! সমস্যা বাড়লো ভারতের ?
10) CIA স্পেশাল অ্যাক্টিভিটিজ সেন্টার (US Special Forces)
সিআইএ-র স্পেশাল অ্যাক্টিভিটিজ সেন্টার (SAC) এর প্যারামিলিটারি শাখা আন্তর্জাতিক গোপন অপারেশন, গুপ্তচরচালক সহায়তা, ও কখনো-কখনো সামরিক-ধাঁচার ছোট অভিযানে যুক্ত হয়। এরা তথ্য সংগ্রহ ও গোপনীয় আক্রমণে সুবিধাজনক, এবং প্রয়োজনে সামরিক ইউনিটের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে।
একযোগে কাজের জটিলতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ
প্রতিটি ইউনিটের আলাদা দক্ষতা ও দর্শন থাকলেও আধুনিক যুদ্ধ ও হাইব্রিড প্রতিযোগিতায় তাদের সমন্বয়ই মূল। সাইবার-সহঅপারেশন, ড্রোন-হুমকি, নগরায়ণ যুদ্ধাত্মকতা ও তথ্যচালিত কৌশল ভবিষ্যতে তাদের মিশনকে আরও জটিল করবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন্স কমান্ড (USSOCOM) ও সংশ্লিষ্ট শাখাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও বন্ধু-দেশের সঙ্গে ইন্টারঅপারেবিলিটি বাড়িয়ে এই ইউনিটগুলোর কার্যকারিতা বজায় রেখেছে।