ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) নেতৃত্বে যে নতুন শুল্কনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ (US Tariff War)। রাষ্ট্রপুঞ্জের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি)-র সেক্রেটারি জেনারেল রেবেকা গ্রিনস্প্যান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই নীতির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিশ্বের দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠী। বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেই আশঙ্কা করছে রাষ্ট্রপুঞ্জ।
পাল্টা শুল্কের চাপে বিশ্ব অর্থনীতি (US Tariff War)
ভারতীয় সময় বুধবার গভীর রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, যে দেশগুলি আমেরিকার পণ্য থেকে শুল্ক নেয়, তাদের উপর পাল্টা ‘পারস্পরিক শুল্ক’ আরোপ করা হবে (US Tariff War)। এর জেরে তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য উত্তেজনা, যার প্রভাব তীব্রভাবে পড়েছে শেয়ার বাজারে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার তালিকায় রয়েছে ভারতও—ভারতীয় পণ্যে ২৬ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জবাবে বৃহস্পতিবার চিন জানিয়ে দেয়, আমেরিকার পণ্যের উপর তারা ৩৪ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসাবে। শুধু তাই নয়, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঘোষণা করেছেন, আমেরিকার ১১টি সংস্থার বাণিজ্যিক কার্যক্রম চিনে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রফতানিতেও রাশ টানা হয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্বেগ (US Tariff War)
এই পরিস্থিতিকে “অস্থিতিশীল এবং উন্নয়নবিরোধী” বলে বর্ণনা করেছেন রেবেকা গ্রিনস্প্যান (US Tariff War)। তিনি বলেন, “বাণিজ্য হল বিশ্ব অর্থনীতির চালিকা শক্তি। এর মাধ্যমে উন্নয়ন সম্ভব, কর্মসংস্থান তৈরি হয়, দারিদ্র্য হ্রাস পায়। বাণিজ্যকে অস্থিরতার উৎস বানালে বিশ্বব্যাপী স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে।” তিনি আরও বলেন, “এটা পারস্পরিক সহযোগিতার সময়। উত্তেজনা বাড়িয়ে তোলার কোনও মানে হয় না। দরিদ্রদের রক্ষা করাই এই মুহূর্তে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।”

শুল্ক যুদ্ধের পরিণতি নিয়ে আশঙ্কা (US Tariff War)
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন শুল্কবাদী নীতি (US Tariff War)বৈশ্বিক বাণিজ্যে একপ্রকার “শুল্ক যুদ্ধ” শুরু করেছে। যদি অন্যান্য দেশও চিনের মতো প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়, তবে গোটা বিশ্বের অর্থনীতি এক ভয়াবহ চক্রে ঢুকে পড়বে। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা—এই সংঘাতের মূল শিকার হবেন সেই সমস্ত উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের মানুষ, যাঁরা মূলত রফতানি নির্ভর অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল।
আরও পড়ুন: UN Report : গাজ়ায় প্রতিদিন ১০০ শিশু হতাহত, রিপোর্টে জানালো রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা
ক্ষতিগ্রস্ত দেশ (US Tariff War)
ট্রাম্পের ঘোষণায় ভারত, ইজ়রায়েল (Benjamin Netanyahu) এবং ভিয়েতনাম অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ (US Tariff War)। ভারতের ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ বাড়তি শুল্কের বোঝা রফতানিকারকদের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। একইভাবে, আমেরিকার রপ্তানি হ্রাস পেলে ভোক্তাপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ভাঙনের আশঙ্কা বাড়ছে। বর্তমানে সারা বিশ্বের নজর রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। রাষ্ট্রপুঞ্জের এই স্পষ্ট হুঁশিয়ারি বিশ্বনেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, আমেরিকা তার অবস্থানে অনড় থাকলে সামনের দিনগুলিতে বিশ্ব অর্থনীতি আরও গভীর অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে—এমনটাই আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের।