Last Updated on [modified_date_only] by Debu Das
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ৯ জুলাই, বুধবার শেষ হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত নতুন শুল্কনীতির ৯০ দিনের স্থগিতাদেশ (US Trade Deal)। আর সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই বড় বাণিজ্যিক ঘোষণার ইঙ্গিত দিলেন আমেরিকার রাজস্বসচিব স্কট বেসান্ত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে ওয়াশিংটন।
কে কোন পর্যায়ে? (US Trade Deal)
ইতিমধ্যেই চিন, ব্রিটেন এবং ভিয়েতনাম-এর সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসান্ত (US Trade Deal)। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধিরাও বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে এখনও আলোচনার পর্ব চলছে। সূত্রের খবর, বেশ কিছু বিষয়ে এখনো মতপার্থক্য রয়েছে নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে। গত শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনও চাপের মধ্যে পড়ে বা নির্ধারিত সময়সীমা মেনে বাণিজ্যচুক্তি সই করবে না ভারত। অর্থাৎ, ভারত আপাতত ধৈর্যের পরীক্ষায় নামছে।
বাড়তি শুল্কের আগাম সতর্কতা (US Trade Deal)
রাজস্বসচিব বেসান্ত এদিন আরও জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (Donald J. Trump) বিশ্বের প্রায় ১০০টি ছোট দেশের কাছে শুল্ক সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠাবেন (US Trade Deal)। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হবে, সময়সীমার মধ্যে আমেরিকান পণ্যের উপর থেকে শুল্ক না কমালে আগামী ১ অগস্ট থেকে ফের বাড়তি শুল্ক চাপানো হবে। এই শুল্ক হবে এপ্রিলের ঘোষণার ভিত্তিতে, যেখানে কিছু দেশের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ছিল। তবে এ বিষয়ে ভারতের ক্ষেত্রে সাময়িক স্বস্তি রয়েছে। কারণ বেসান্ত জানিয়েছেন, এই কড়া শুল্ক নীতির টার্গেট মূলত ছোট ছোট রাষ্ট্র, যাদের সঙ্গে আমেরিকার ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নেই। ভারত আপাতত সেই তালিকায় নেই।

ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি কতদূর এগোলো? (US Trade Deal)
২ এপ্রিল ট্রাম্প সরকার ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করে (US Trade Deal)। ভারতীয় পণ্যে চাপানো হয় ২৬ শতাংশ শুল্ক। পরে তা স্থগিত রেখে ন্যূনতম ১০ শতাংশে নামানো হয়। তবে এই ছাড় অস্থায়ী, এবং সময়সীমা শেষ হলে তা ফের পূর্বাবস্থায় ফিরে যেতে পারে। ভারতের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোলেও মূল জটিলতা কিছু নির্দিষ্ট খাতে শুল্ক ছাড় এবং প্রযুক্তি স্থানান্তর নিয়ে। ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করতে চাইলেও, ভারত সময় নিচ্ছে নিজস্ব শর্তে এগোতে।
এখন নজর বুধবারের দিকে (US Trade Deal)। ওই দিনই শেষ হচ্ছে মার্কিন স্থগিত শুল্ক নীতির সময়সীমা। তার আগেই কিছু বড় বাণিজ্য ঘোষণার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নিরিখে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে চলেছে। ভারত তার অবস্থানে অনড় থাকলে কী হবে? শুল্কের চাপ বাড়বে না তো? এই প্রশ্ন ঘিরেই চরম অনিশ্চয়তা। ট্রাম্পের ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাস্কের নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের আবহে এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আসরে সময় যেন সংকুচিত হয়ে আসছে (US Trade Deal)।