Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আজকের দিনে ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি বড়ো আলোচনার বিষয় (Weight Loss)। বাড়তি ওজন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, তাই অনেকেই ডায়েট, শরীরচর্চা কিংবা বিভিন্ন লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু একেবারেই চেষ্টা না করেও যদি কারও শরীর থেকে দ্রুত ওজন কমতে শুরু করে, তবে সেটি কোনও সুখবর নয়। বরং এটি শরীরের গভীরে লুকিয়ে থাকা গুরুতর অসুখের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে কোনও ব্যক্তির মোট শরীরের ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমে যায়, অথচ তার কোনও নির্দিষ্ট কারণ না থাকে (যেমন ব্যায়াম, ডায়েট বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তন), তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া একেবারেই উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
ক্যানসার (Weight Loss)
হঠাৎ করে দ্রুত ওজন কমে যাওয়া ক্যানসারের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে পেট, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, লিভার বা রক্তের ক্যানসারের ক্ষেত্রে রোগ শুরু হওয়ার সময় অনেক রোগীর ওজন কমতে থাকে। ক্যানসারের কোষ শরীরের শক্তি ব্যবহার করতে থাকে এবং স্বাভাবিক মেটাবলিজম বিঘ্নিত করে। এর ফলে ক্ষুধা কমে যায়, পুষ্টি শোষণে সমস্যা হয় এবং রোগী ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েন।
হরমোনজনিত সমস্যা (Weight Loss)
- হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে শরীরের ওজনে বড় পরিবর্তন দেখা যায়।
- হাইপারথাইরয়েডিজম – অতিরিক্ত থাইরয়েড হরমোন তৈরি হলে বিপাকের হার অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়, যার ফলে অল্প খাওয়া সত্ত্বেও দ্রুত ওজন কমে।
- অ্যাডিসন’স ডিজিজ – কর্টিসল হরমোনের ঘাটতিতে শরীর প্রয়োজনীয় শক্তি পায় না, ফলে ওজন কমতে থাকে।
পাচনতন্ত্রের রোগ (Weight Loss)
- হজম ও পুষ্টি শোষণের সমস্যায় ওজন হ্রাস একটি সাধারণ বিষয়। যেমন—
- ক্রোন’স ডিজিজ
- উলসারেটিভ কলাইটিস
- সিলিয়াক রোগ
- এই রোগগুলিতে অন্ত্র স্বাভাবিকভাবে খাবারের পুষ্টি শোষণ করতে পারে না। ফলে রোগী যতই খান না কেন, শরীর তার পূর্ণ পুষ্টি পায় না এবং ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে।
মানসিক সমস্যা (Weight Loss)
- মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে শরীরের ওজনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
- খাদ্যগ্রহণজনিত রোগ – অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া ইত্যাদিতে রোগীরা সচেতনভাবে খাবার এড়িয়ে চলেন, যার ফলে দ্রুত ওজন হ্রাস ঘটে।
- বিষণ্নতা ও উদ্বেগ – মানসিক চাপে ক্ষুধা কমে যায়, অনেক সময় খাবার হজম হতেও সমস্যা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন হ্রাসের কারণ হতে পারে।
ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ (Weight Loss)
- বিশেষ করে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শরীর গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে না। তখন শরীর শক্তির জন্য ফ্যাট ও মাংসপেশি ভাঙতে শুরু করে, যার ফলে ওজন দ্রুত কমে যায়। এছাড়া—
- হার্ট ফেলিওর
- টিউবারকিউলোসিস
- এইচআইভি
- গুরুতর সংক্রমণ
এসব রোগেও অজান্তেই ওজন কমতে থাকে।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (Weight Loss)
অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ খেলে ক্ষুধামন্দা, বমি ভাব বা হজমে সমস্যা দেখা দেয়। যেমন— কেমোথেরাপি, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক বা মানসিক রোগের ওষুধ। এগুলির কারণে ধীরে ধীরে শরীরের ওজন হ্রাস পায়।
ক্যাশেক্সিয়া বা ওয়েস্টিং সিন্ড্রোম (Weight Loss)
এটি একটি গুরুতর অবস্থা, যেখানে একইসঙ্গে শরীর থেকে মাংসপেশি ও ফ্যাট ভেঙে যায়। সাধারণত ক্যানসার, হার্ট ফেলিওর বা কিডনির শেষ পর্যায়ের রোগীদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়। এই অবস্থায় শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন: Sridevi: শ্রীদেবীর সম্পত্তি নিয়ে বিতর্ক, আইনের দ্বারস্থ বনি কাপুর
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
যদি কারও শরীরের ওজন স্বাভাবিক জীবনযাত্রার বাইরে গিয়ে দ্রুত কমতে থাকে, তবে বিষয়টি একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় রোগীরা ভেবে নেন, হঠাৎ ওজন কমা মানে স্বাস্থ্য ভালো হচ্ছে বা শরীর ফিট হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এটি বিপজ্জনক ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই— সময়মতো রক্ত পরীক্ষা, হরমোন টেস্ট, ইমেজিং টেস্ট বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরীক্ষা করানো দরকার। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ নিয়ে সঠিক রোগ নির্ণয় করলে প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়। অনেক গুরুতর রোগ, যেমন ক্যানসার বা ডায়াবেটিস, প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে নিয়ন্ত্রণে রাখা তুলনামূলকভাবে সহজ।