ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ধর্মতলায় ধর্নার সময়সীমা আরও অন্তত ১০ দিন বৃদ্ধি করতে চায় চিকিৎসকেরা। সেই আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাসের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলা দায়ের করে দ্রুত শুনানির আবেদন। মামলা দায়ের অনুমতি বিচারপতির। শুনানি শেষ। রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি (Calcutta High Court News)।
অতিরিক্ত দিন ধর্না চেয়ে পুলিশকে চিঠি দেয় জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টরস সংগঠন। ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত হাইকোর্টের (Calcutta High Court News) অনুমতি রয়েছে ধর্নার। অতিরিক্ত দিন ধর্নার অনুমতি দেয়নি কলকাতা পুলিশ। তাই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ।চিকিৎসকদের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্য বলেন, ”আমরা ২৬ তারিখের পরেও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানাই। কিন্তু পুলিশ এই অনুমতি দেয়নি। শান্তিপূর্ণ ধর্না মৌলিক অধিকার। এটা আদালতের বিষয় পুলিশের নয়। ওরা ডিভিশন বেঞ্চে যায়। সেখানে লোক কমিয়ে ১০০ জন করে ডিভিশন বেঞ্চ। মুখ্যসচিবের কাছে দু দফা আবেদন করা হয়েছে। আমরা ধর্না চালিয়ে যেতে চাই।”
তার উত্তরে রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ”সিবিআই টাইম টু টাইম স্ট্যাটাস রিপোর্ট দিয়েছে। তাঁদের চার্জশিটেও একজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। যাকে পুলিশই ধরেছে। পরে নিম্ন আদালতে বিচার চলাকালীন সন্দীপ ঘোষ ও টালা থানার ওসি জামিন পেয়ে যায়। ওদের দাবি অতিরিক্ত চার্জশিট দিয়ে এঁদের অভিযুক্ত করতে হবে। কে, কখন চার্জশিট দেবে সেটা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিষয়। সুপ্রিম কোর্টেও বিষয়টি বিচারাধীন। তাই এই বিষয়ে অন্য কেউ এভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ডরিনা ক্রসিংয়ে তাঁরা ধর্না চালিয়ে যেতে চায়।”
”তাঁদের দাবি এখন ধর্না। একক বেঞ্চের নির্দেশকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এড়িয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। ডিভিশন বেঞ্চেও তাঁরা দিন বাড়ানোর কথা বলেনি। তারপর তিনদিন চলে গিয়েছে। এই রাস্তায় ধর্না করছে সমস্যা সৃষ্টির জন্য। নতুন আবেদনেও তাঁরা কত সংখ্যক উপস্থিত থাকবে তা জানায়নি। বাইরের থেকে কি কোনও অদৃশ্য শক্তি অন্য কাউকে অভিযুক্ত করার জন্য প্ররোচিত করছে। খ্রিস্টমাসের উৎসব চলছে। পার্কস্ট্রিট ছাড়াও শহর কলকাতার একাধিক স্থানে ভিড়। আদালতের নির্দেশও অমান্য করা হয়েছে। গার্ডরেল সরানো, মব দিয়ে রোড ব্লক করা হয়েছে। ডিভিশন বেঞ্চও একক বেঞ্চের নির্দেশের পক্ষেই মান্যতা দেওয়া নিয়ে মত দেয়। জাস্টিস ইস নট এ ওয়ানওয়ে ট্রাফিক। ইটস টু ওয়ে ট্রাফিক। এই আবেদন খারিজ হোক উইথ কস্ট। ডাক্তাররা ডেলিভারি বিল করছে ৬ লক্ষ টাকা। মানুষের উচিত এঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামা।”
আরও পড়ুন: https://tribetv.in/tmc-worker-allegedly-lost-his-life-at-nandigram-areas/
তার উত্তরে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য্য বলেন, ”ডিভিশন বেঞ্চেও ওনারা একই বক্তব্য জানিয়েছিলেন। আমরা নতুন করে আবেদন জানিয়েছি। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে ধর্না করাই যায়। আমরা ৭-৮দিন আরও বাড়াতে চাই। ডিভিশন বেঞ্চ এর অর্ডার গাইডিং অর্ডার।”
আরও পড়ুন: https://tribetv.in/saumitra-khan-facebook-live-tough-talk-to-party-workers/
কল্যাণ বলেন, ”ডিভিশন বেঞ্চে আমরা একক বেঞ্চের অর্ডারে স্থগিতাদেশ চেয়ে গিয়েছিলাম। ওরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ধর্না চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছে। আবার পরে সময় চাইবে। হুলিগারিজম চলছে।” চিকিৎসকদের আইনজীবী শামিম আহমেদ বলেন, ”আর অন্তত ১০ দিন দেওয়া হোক।” শুনানি শেষ। রায়দান স্থগিত রাখলেন বিচারপতি প্রসেনজিৎ বিশ্বাস। আজকেই রায় ঘোষণার সম্ভাবনা।