ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: আরজি করে চিকিৎসক খুন ও ধর্ষনের ঘটনায় তদন্তে গাফিলতি সহ একাধিক দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছিল নির্যাতিতার পরিবার। সেই মামলায়, আদালতের নির্দেশ মেনে স্ট্যাটাস রিপোর্ট (Status Report Submit) জমা দিল সিবিআই। রিপোর্ট দিয়ে সিবিআই আদালতে জানালো নির্যাতিতার গণধর্ষণ হয়নি। ক্রাইম সিন থেকে একজন পুরুষেরই ডিএনএ পাওয়া গিয়েছে।
সিবিআই এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই মামলায় রিজওয়ানুর কেসের তদন্তের গতির উদাহরণ দিয়ে উস্কে দিলেন রাজ্যের আইনজীবী। এই মামলায় আরও কিছু তথ্য সিবিআই এর কাছে চায় আদালত। পরবর্তী শুনানিতে দিতে হবে সিবিআইকে সেই রিপোর্ট। দুই সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট (Status Report Submit) আদালতে দিতে হবে সিবিআই কে। এদিন সিবিআই শুনানিতে জানিয়ে দিল গণধর্ষণ হয়নি।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের নির্দেশ (Status Report Submit)
যে সমস্ত সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে তার রেজিস্টার সিবিআই কে আদালতে জমা দিতে হবে। ফরেনসিক এক্সপার্ট কী বলেছেন এবং সেই সমস্ত তথ্য ও প্রমান আদালতে জমা দিতে হবে। কলকাতা পুলিশের কেস ডাইরি এবং তদন্ত হস্তান্তর হওয়ার পর তারপরের কেস ডায়েরি আদালতে জমা দিতে হবে। কেন তদন্তে দেরি হচ্ছে এবং কোথায় তদন্ত আটকে আছে তার রিপোর্ট (Status Report Submit) দিতে হবে সিবিআইকে। আগামী ২৩ এপ্রিল সিবিআই কে তা দিতে হবে। সেইদিন পরবর্তী শুনানি।

সুদীপ্ত মৈত্র (নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী): আপনি আজকে সিবিআইকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিলেন।
রাজদীপ মজুমদার (সিবিআই এর আইনজীবী): আপনি তার আগে আই এ অ্যাপ্লিকেশন যেটা আবেদন কারী সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে সেটা একটু দেখুন।(Status Report Submit) যেখানে প্রথম আবেদন করা হয়েছে তদন্তের ক্লারিফিকেশন চেয়ে পুনঃতদন্ত চেয়ে নয়।
আমরা স্ট্যাটাস রিপোর্ট ক্লোজড এনভেলপ এ জমা দিচ্ছি। আপনি যা যা জানতে চেয়েছিলেন সব কিছুই আমি জানাব যা এই রিপোর্টে লেখা আছে।
আরও পড়ুন: Student Election: কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নির্বাচন কবে? হলফনামা দিয়ে আদালতে জানানোর নির্দেশ
সুদীপ্ত মৈত্র: আমরা এর কপি একটা পেতে পারি?
রাজদীপ: না। আইন অনুযায়ী এটার অনুমতি দেওয়া যায় না। এই সমস্ত বিষয় নিয়ে আমরা সুপ্রিম কোর্টের কাছে আগেই রিপোর্ট জমা দিয়েছি।
বিচারপতি: আমি এর আগেও জিজ্ঞাসা করেছিলাম যদি এটা গ্যাং রেপ হয় তাহলে সেক্ষেত্রে আপনারা কি কি পদক্ষেপ নিয়েছেন তদন্তের ক্ষেত্রে।
রাজদীপ: আমরা ক্রাইম সিন তদন্ত করেছি। সমস্ত রিপোর্ট ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছিল। আমরা ১৪ জনের একটা স্পেশাল ডাক্তারদের টিম তৈরি করেছিলাম।(Status Report Submit) যেখানে গোটা দেশ থেকে ডাক্তারেরা যুক্ত ছিলেন। এইএমএস সহ অন্যান্য অনেক জায়গা থেকে স্পেশালাইজড গাইনো, অনকোলজি সহ বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তাররা ছিলেন। তদন্ত শেষে তারা জানান “এটা সত্য নয়”।
বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ: আপনারা এখন কি করছেন?রাজদীপ: আমরা এখন তদন্ত করে দেখছি এই ঘটনা ঘটানোর পেছনে কোনো বৃহত্তর ষড়যন্ত্র আছে কিনা এবং তদন্ত লোপাটের পেছনে কী কারণ আছে কারা আছে? আমরা হাসপাতালের স্টাফ সহ সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।
আরও পড়ুন: Surround SP Office: কাল বারুইপুরে এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি বিজেপির, শর্তসাপেক্ষে অনুমতি হাইকোর্টের
বিচারপতি: তাহলে আপনারা এখন ঘটনার পরবর্তী অফিসারদের কি পদক্ষেপ ছিল সেটা তদন্ত করছেন।
আপনাদের কত দিন সময় লাগবে?
রাজদীপ: এখনই আমরা বলতে পারছি না কতটা সময় লাগবে। আমাদের সময় লাগবে। সুপ্রিম কোর্টে এখনও পেন্ডিং আছে এই মামলা।

বিচারপতি: আমি এই যুক্তি শুনতে চাই না কারণ সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় ইঙ্গিত দিয়েছে যে হাইকোর্ট এই রিট পিটিশনের শুনানি করতে পারে। এই মামলার মেন্টেনেবিলিটি নয় মিস্টার ব্যানার্জি প্রশ্ন করেছিলেন।
আপনাদের কাছে সমস্ত নথি প্রমাণ আজকে আছে?(Status Report Submit) (ট্রায়াল কোর্টে সিবিআইয়ের পাবলিক প্রসিকিউটরকে প্রশ্ন) আপনি ট্রায়াল কোর্টে ডক্টর অপূর্ব বিশ্বাস, ডক্টর মলি ব্যানার্জি এবং ডক্টর রিনা দাসকে এক্সামিন করেছিলেন?
রাজদীপ: ইনি ট্রায়াল কোর্টে আমাদের পাবলিক প্রসিকিউটর ছিলেন।
কল্যাণ ব্যানার্জি (রাজ্যের আইনজীবী): এখানে ট্রায়াল হয়ে গেছে। এখানে যদি তদন্তে কোনও গাফিলতি থাকত তাহলে আবার তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া যায়। কিন্তু ট্রায়াল শেষ হয়ে যাওয়ার পর নয়। তদন্তে গাফিলতি থাকলে অবশ্যই আদালতের অধিকার আছে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়ার।
বিচারপতি: মিস্টার বন্দ্যোপাধ্যায় এই স্ট্যাটুটোরি পাওয়ার কি কনস্টিটিউশনাল পাওয়ারকে রেস্ট্রিক্ট করতে পারে?
কল্যাণ: আমার ১৭ বছরের প্র্যাকটিসে আমি এটি দেখেছি এবং জেনেছি তদন্তে গাফিলতি থাকলে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া যায়। ট্রায়াল শেষ হয়ে গেলে নয়। আর একটা তদন্তকারী সংস্থার বারংবার বলে যাচ্ছে তাদের অনেক নথি তাদের অনেক সময় লাগবে। তারা তদন্ত শেষ করে উঠতে পারে না। আপনি রিজয়ানুর মামলা দেখুন কোনও ট্রায়াল হয়নি।
২০০১ সালের একটা মামলায় ২৪ বছর ধরে কোনও ট্রায়াল হয়নি। অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও ট্রায়াল হয়নি। তারা নিজেদেরকে প্রাইম এজেন্সি বলে। এর থেকে একজন কনস্টেবলকে তদন্তের (Status Report Submit) দায়িত্ব দেওয়া ভাল। আপনারা আপনাদের ঔদ্ধত্য এখানে দেখাবেন না। সিবিআই উদ্ধত সবাই জানে। কিন্তু এখানে এটা দেখাবেন না। (রাজদীপ এর উদ্দেশ্যে কল্যাণের বক্তব্য)
যদি ট্রায়াল রিভাইভ করা না যায় তাহলে কোর্ট কি করে রিভাইভ করতে পারে?
রিজওয়ানুর মামলায় আমাকে বলা হয়েছিল আইনের ক্লাস করে আসতে। যারা বলেছিলেন সেই সব সিনিয়ররা সেদিন হেরেছিলেন এবং আমি জিতেছিলাম।
আরও পড়ুন: Jadavpur University: অবসরের ৩ দিন আগেই সরানো হল যাদবপুরের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যকে

বিচারপতি: আমি বুঝতে পারছি আপনি মেরিট নিয়ে বলছেন না আপনি আইনগত ভাবে করা যায় কিনা তা নিয়ে বলছেন।
রাজদীপ: বাকি দুটো ডিপোসিসন আমার কাছে আছে।
বিচারপতি: ডি এন এ প্রোফাইলিং কি শুধু অভিযুক্তের করা হয়েছিল নাকি বাকিদেরও করা হয়েছিল?
রাজদীপ: বাকিদেরও করা হয়েছিল।
বিচারপতি: আপনি কি সেই রিপোর্ট দিয়েছেন?
রাজদীপ: হ্যাঁ। পেজ ১৭ প্যারা ৯।(Status Report Submit)
আমাদের কাছে পলিগ্রাফ টেস্ট রিপোর্টও রয়েছে।
বিচারপতি: আপনি আমাকে এই নথিগুলো দিন। ১৬১ স্টেটমেন্ট দিন। অভিযুক্তদের ভয়েস স্যাম্পেল আর পলিগ্রাফের কথা বলছেন ডি এন এ অ্যানালিসিস হয়েছিল? ডি এন এ প্রোফাইলিং কি একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে করা হয়েছিল?
রাজদীপ: একজন। স্যাম্পেল অন্য কোনো মেইল ডি এন এ পাওয়া যায় নি।
সুদীপ্ত মৈত্রকে বিচারপতি: এখানে অলরেডি একজন দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রমাণ জমা পড়েছে আদালতে। সেগুলো না দেখে আমি কিছু বলতে পারছি না।
আরও পড়ুন: Kalna Incident: খেলতে গিয়েই মৃত্যু, মানতে নারাজ পরিবার!
সুদীপ্ত মৈত্র: ওই নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে যদি বলি তাহলে সেদিনের ঘটনাক্রম দেখলে আপনি বিস্মিত হবেন।
বিচারপতি: এইজন্যই আমি বলছি আমাকে তথ্য প্রমাণ গুলো দেখব?(Status Report Submit)
সুদীপ্ত মৈত্র: এই ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই ঘটনার পর হাসপাতালের অধ্যক্ষ, কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল না এফ আই আর করা? যতক্ষণ না নির্যাতিতার বাবা এফআইআর দায়ের করেন নি। ততক্ষণ এফআইআর দায়ের হয়নি।
রাজদীপ: আমরা এই বিষয়গুলো তদন্ত করছি।
বিচারপতি: এইভাবে বিষয়টা চলতে পারে না। আমাকে একটা পথ ধরে চলতে হবে। আমি তিন থেকে চার দিন বেশির থেকে বেশি এই মামলা নিতে পারব। আপনি আমাকে কলকাতা পুলিশের ইনিশিয়াল কেস ডায়েরি দিতে পারবেন?
রাজদীপ: হ্যাঁ।
বিচারপতি: আমাকে আপনাদের মুভমেন্ট রেজিস্টার দেখাবেন।(Status Report Submit) কাকে নিয়ে আপনারা তদন্ত করছেন কখন করছেন? আপনারা কোথায় আটকেছেন এবং কেন আটকেছেন? কারণ আপনি আদালতে জানিয়েছেন আপনি টাইমলাইন জানাতে পারছেন না।
বিচারপতি: আপনারা কোন কোন তথ্যের ওপর নির্ভর করছেন এবং নির্ভর করছেন না সেই তালিকা দিন। আর জানান আপনারা তদন্তে কোথায় আটকালেন?
ইনজুরির বিষয়টা যেটা ইনকোয়েস্ট রিপোর্ট এ বলা হয়েছে সেটা পোস্ট মর্টেম রিপোর্টে নেই। একটা আঙুলের ক্ষত আর একটা পেটের ক্ষত।
পরবর্তী শুনানি ২৩ এপ্রিল। দু সপ্তাহ সময় দেওয়া হল সিবিআইকে।