ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: মার্কিন প্রযুক্তিপ্রেমী ও ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক শীঘ্রই ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald J. Trump) প্রশাসন থেকে পদত্যাগ করতে চলেছেন (Elon Musk)। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলে এই ঘোষণা করেছেন। নির্বাচনের পরপরই ‘দক্ষতা বিষয়ক দফতর’-এ মাস্ককে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল। তবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই তিনি এই পদ ছেড়ে দিচ্ছেন। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে সরাসরি কোনো অসন্তোষ প্রকাশ করেনি, তবে এর পেছনে থাকা কারণগুলো নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
কেন এই পদত্যাগ? (Elon Musk)
মাস্কের আকস্মিক এই সিদ্ধান্তের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে (Elon Musk)। প্রথমত, তাঁর নিজস্ব সংস্থাগুলোর পরিচালনা নিয়ে ব্যস্ততা। তিনি টেসলা, স্পেসএক্স, নিউরালিংক এবং অন্যান্য প্রযুক্তি সংস্থার মালিক, যেগুলোর কার্যক্রমে তিনি সরাসরি যুক্ত। সরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে তাঁর ব্যবসায়িক কাজে ব্যাঘাত ঘটছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, মাস্কের নেওয়া কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত, বিশেষ করে সরকারি কর্মী ছাঁটাই সংক্রান্ত বিষয়টি তাঁকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। তাঁর নির্দেশে কর্মী ছাঁটাই করা হলেও আদালত তা প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়, যা প্রশাসনের অভ্যন্তরে সমালোচনার জন্ম দেয়। তৃতীয়ত, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মতানৈক্যও একটি কারণ হতে পারে। যদিও মাস্ক বা ট্রাম্প কেউই এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিছু নীতিগত সিদ্ধান্তে তাঁদের মধ্যে অমিল থাকতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া (Elon Musk)
হোয়াইট হাউসের মিডিয়া-সচিব ক্যারোলিন লিভিট দাবি করেছেন, মাস্কের (Elon Musk) পদত্যাগ পরিকল্পিত এবং নতুন কিছু নয়। ট্রাম্প এবং মাস্ক আগেই জানিয়েছিলেন যে, বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে তাঁর নির্ধারিত কাজ শেষ হলেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এই বিষয়ে বলেন, “মাস্ক অসাধারণ। তাঁকে ধরে রাখার চেষ্টা করব। কিন্তু তাঁরও নিজস্ব একটি বড় সংস্থা আছে। সেখানেই তিনি ফিরতে চান।”অন্যদিকে, মাস্কের বিদায়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পরপরই টেসলার শেয়ারের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: US Tariff War : ‘মুক্তি দিবসে’ পাল্টা আমদানি শুল্ক ঘোষণা ট্রাম্পের! ভারতের উপর চাপলো ২৬ শতাংশ শুল্ক
সরকারি পদে মাস্কের প্রভাব (Elon Musk)
ইলন মাস্কের (Elon Musk) সরকারি পদে থাকার সময়সীমা খুব অল্প হলেও তাঁর কাজের প্রভাব যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দক্ষতা বিষয়ক দফতরে কাজ করার সময় তিনি প্রযুক্তি খাতে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নীতি প্রণয়ন করেছেন। আমেরিকার অর্থনীতিতে প্রযুক্তি-ভিত্তিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য তাঁর নেওয়া পরিকল্পনা প্রশংসিত হলেও, কিছু বিতর্কও তৈরি হয়।

আরও পড়ুন: Bimstec Summit : মোদী-ইউনূস বৈঠক নিয়ে আশাবাদী বাংলাদেশ! জানিয়েছেন সে দেশের বিদেশ সচিব
ভবিষ্যতে মাস্ক-ট্রাম্প সম্পর্ক (Elon Musk)
যদিও মাস্ক সরকারি পদ থেকে সরে যাচ্ছেন, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক বজায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যে জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে মাস্ক প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে পারেন। মাস্ক নিজেও বলেছেন, তিনি প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে আগ্রহী।
পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত (Elon Musk)
ইলন মাস্কের পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা (Elon Musk)। যদিও এটি পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে এর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মাস্ক প্রশাসনের বাইরে থেকে কীভাবে তাঁর প্রভাব বজায় রাখেন এবং তাঁর বিদায়ের পর দক্ষতা বিষয়ক দফতর কীভাবে পরিচালিত হয়।