ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita williams) এবার ভারত সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন (Sunita williams isro) । মহাকাশে ২৮৬ দিন কাটানোর পর পৃথিবীতে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর (ISRO) বিজ্ঞানীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন।নাসার এই অভিজ্ঞ নভোচারীর পৈতৃক ভিটে ভারতের গুজরাট রাজ্যের মেহসানা জেলার ঝুলাসন গ্রামে অবস্থিত। সেখানে এখনও তাঁর আত্মীয়রা বসবাস করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যার পরিপ্রেক্ষিতে সুনীতা নিজেও ভারতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন (Sunita williams isro)।
মহাকাশে দীর্ঘ ২৮৬ দিন (Sunita williams isro)
গত বছর ৫ জুন বোয়িং স্টারলাইনার যানযোগে মহাকাশের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সুনীতা উইলিয়ামস (Sunita williams isro) এবং তাঁর সহকর্মী বুচ উইলমোর (Butch Wilmore) । পরিকল্পনা ছিল, তাঁরা আট দিন আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) অবস্থান করবেন। কিন্তু মহাকাশযানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেই সফর দীর্ঘায়িত হয় এবং তাঁরা ২৮৬ দিন মহাকাশে কাটানোর পর ১৯ মার্চ নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন।পৃথিবীতে ফিরে আসার পর থেকে তাঁরা নাসার বিশেষ তত্ত্বাবধানে রয়েছেন। মহাকাশচারীদের পৃথিবীতে ফেরার পর শারীরিক ও মানসিকভাবে পুনরায় খাপ খাইয়ে নিতে সময় লাগে। তাই তাঁদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তবে এর মধ্যেই ভারত সফরের ইচ্ছার কথা জানিয়ে দিলেন সুনীতা (Sunita williams isro)।

ইসরোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করতে চান (Sunita williams isro)
সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় সুনীতা বলেন, “আমার আশা এবং আমি নিশ্চিতভাবে মনে করি যে আমি বাবার দেশে যাব এবং সেখানকার মানুষদের সঙ্গে দেখা করব (Sunita williams isro)। ভারতের যে মহাকাশ গবেষকেরা ইসরোর ভবিষ্যৎ মিশনে কাজ করছেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করার জন্য আমি খুবই আগ্রহী।” তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি, কোনো এক সময়ে ইসরোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করতে পারব এবং নিজের অভিজ্ঞতার কথা ভারতের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারব।”

আরও পড়ুন: Imran Khan Nobel Peace : কেন নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেন ইমরান খান?
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণায় অনুপ্রেরণা (Sunita williams isro)
সুনীতা উইলিয়ামসের ভারত সফর ভারতীয় মহাকাশ গবেষকদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে (Sunita williams isro)। তাঁর মহাকাশ অভিযানের অভিজ্ঞতা ইসরোর বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যৎ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে, ভারতের গগনযান মিশনের মতো বড় প্রকল্পের জন্য নাসার এই অভিজ্ঞ নভোচারীর অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ কার্যকরী হতে পারে।ভারত ও মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থাগুলির মধ্যে সহযোগিতা আগেও ছিল, তবে সুনীতার সফর নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। তরুণ বিজ্ঞানীদের জন্যও এটি অনুপ্রেরণার একটি বিরাট উৎস হতে পারে, যারা মহাকাশ গবেষণায় নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে চান।সুনীতা উইলিয়ামস শুধুমাত্র একজন মহাকাশচারী নন, বরং তিনি ভারতীয়দের জন্য এক অনুপ্রেরণার প্রতীক। তাঁর সফর ভারত-আমেরিকা মহাকাশ সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, কবে তিনি ভারতে আসেন এবং ইসরোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে তাঁর প্রতীক্ষিত সাক্ষাৎ কখন হয়।
আরও পড়ুন: US Tariff: শুল্ক নীতিতে ট্রাম্পের নিশানায় ভারত সহ একাধিক দেশ! কোন কোন দেশে প্রভাব পড়বে?