Last Updated on [modified_date_only] by Aditi Singha
ট্রাইব টিভি বাংলা ডিজিটাল: প্রকৃতির বিস্ময় যে কতখানি বহুমাত্রিক (Thailand), তার আরেকটি দৃষ্টান্ত ধরা পড়ল সম্প্রতি থাইল্যান্ডে। পৃথিবী এখনও কতটা অজানা ও রহস্যে মোড়া—এই ঘটনাই যেন তার প্রমাণ। সভ্যতা ও বিজ্ঞানের এত উন্নতির পরেও প্রকৃতি মাঝে মাঝেই আমাদের সামনে হাজির করে নতুন নতুন চমক। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের কায়েং ক্রাচেং জাতীয় উদ্যানে আবিষ্কৃত হয়েছে এক বিরল ও মনোমুগ্ধকর উজ্জ্বল বেগুনি রঙের কাঁকড়া, যা দেখে মুহূর্তেই বিস্মিত হতে হয়।
বিরল আবিষ্কার (Thailand)
উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে (Thailand), পর্যটন মরশুম শেষ হওয়ার আগেই প্যানোয়েন থাং চেকপয়েন্টের কাছে প্রথম দেখা মেলে এই কাঁকড়ার। এতদিনে আবিষ্কৃত কাঁকড়াদের মধ্যে এ ধরনের উজ্জ্বল বেগুনি রং অত্যন্ত অস্বাভাবিক। তাই এই কাঁকড়ার নাম রাখা হয়েছে ‘সিরিনধ্রন’, যার অর্থ ‘রাজকুমারী’। থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের রাজকুমারী মহা চাকরি সিরিনধ্রনের নাম অনুসারেই নামকরণ করা হয়েছে এই বিরল প্রাণীর।

চেহারা ও বৈশিষ্ট্য (Thailand)
উদ্যান কর্তৃপক্ষের ভাষায়, এই কাঁকড়া প্রকৃতির এক অমূল্য দান। সবুজ অরণ্যের মাঝে এর রঙিন উপস্থিতি এতই ঝলমলে যে মনে হয় চলমান কোনো রত্ন। পূর্ণবয়স্ক কাঁকড়ার খোলসের প্রস্থ মাত্র এক ইঞ্চি হলেও তার উজ্জ্বলতা নজর কাড়ে।
জীববিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই প্রজাতিটি আসলে পান্ডা ক্র্যাব (Lepidothelphusa cognetti)-এর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। পান্ডা ক্র্যাবও বিরল, তবে তাদের শরীর সাধারণত সাদা-কালো। জল ও স্থল উভয় পরিবেশে তারা বেঁচে থাকতে পারে। কিন্তু বেগুনি রঙের এই নতুন কাঁকড়া, রঙের জন্যই আলাদা এবং বিরল থেকে বিরলতম।

পান্ডা ক্র্যাবের ইতিহাস (Thailand)
প্রসঙ্গত, পান্ডা ক্র্যাব প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল ১৯৮০ সালে থাইল্যান্ডে। তখন থেকেই এগুলি অত্যন্ত বিরল হিসেবে চিহ্নিত। সেই তুলনায় এই নতুন বেগুনি কাঁকড়া আরও বেশি রহস্যময়, কারণ এর জীবনচক্র, প্রজনন পদ্ধতি কিংবা আচরণ সম্পর্কে এখনও প্রায় কিছুই জানা যায়নি।

জীববৈচিত্র্যের ভাণ্ডার
কায়েং ক্রাচেং জাতীয় উদ্যান থাইল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং এটি ইউনেস্কো ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এখানে চিতাবাঘ, ভল্লুক, শঙ্খচূড় সাপ, কাঁকড়া সহ অসংখ্য প্রাণীর বাস। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলো এই বিরল বেগুনি কাঁকড়া।

পরিবেশ সংরক্ষণে নতুন দিশা
উদ্যান কর্তৃপক্ষের দাবি, এই নতুন প্রাণীর আবিষ্কার কেবলমাত্র জীববৈচিত্র্যের অনন্যতাকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে থাইল্যান্ডের প্রাকৃতিক ঐতিহ্যকেও আরও সুস্পষ্ট করে তুলবে। সরকারও ভবিষ্যতে উদ্যানের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে আরও পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।
আরও পড়ুন: Health tips: বিড়াল শুধু আদরের নয়, স্বাস্থ্য রক্ষারও সঙ্গী
প্রকৃতি আমাদের সামনে বারবার প্রমাণ করে দেয় যে তার ভাণ্ডার অশেষ। মানুষ যতই প্রযুক্তিতে উন্নত হোক না কেন, প্রকৃতির বিস্ময় এখনও আমাদের অজানা রয়ে গেছে। থাইল্যান্ডের এই বিরল বেগুনি কাঁকড়ার আবিষ্কার শুধু বৈজ্ঞানিক দিক থেকেই নয়, নান্দনিক সৌন্দর্যের কারণেও পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল সংযোজন হয়ে থাকবে।